মিয়ানমারে নির্বাচনের যে পরিকল্পনা সেখানে সমালোচনা করলেই গ্রেফতার!

মিয়ানমারে সম্ভাব্য নির্বাচনের যে পরিকল্পনা ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার ঘোষণা করেছে—সেই পরিকল্পনার সমালোচনা, প্রতিবাদ  কিংবা নির্বাচন বানচালের জন্য কোনো পরিকল্পনা করলেই গ্রেফতার হতে হবে।

বুধবার (৩১ জুলাই) এমন একটি আইন পাশ করেছে জান্তা।

‘প্রোটেকশন অব মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেটিক ইলেকশন ফ্রম অবস্ট্রাকশন, ডিসরাপশন অ্যান্ড ডেস্ট্রাকশন’ নামের এই আইনটি ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার পাস এবং কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারে রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক দ্য গ্লোবাল নিউ লাইটপাকিস্তানে পর্বতারোহণে এসে অলিম্পিক স্বর্ণজয়ীর মৃ’ত্যু

এই আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে যে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য, সমালোচনা, প্রতিবাদ, লিফলেট বিতরণ বা বিক্ষোভ আয়োজন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে শাস্তি হবে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর এবং কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড।

নির্বাচন চলাকালীন ব্যালট পেপার নষ্ট করা, ভোটার, প্রার্থী কিংবা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো বা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। নির্বাচনী সহিংসতায় কেউ নিহত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে হটিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। তারা দাবি করে, ২০২০ সালের নির্বাচন ছিল জালিয়াতিপূর্ণ। অভ্যুত্থানের পর সুচি ও এনএলডির হাজারো নেতাকর্মীকে আটক করা হয়, যাদের অনেকেই এখনো কারাগারে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন আইনটি আরও দমনমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

 

এনএএন টিভি