শুক্রবার (১৮ আগস্ট) হাসপাতালের নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে সাত শিশুকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন লুসি লেটবি নামের ৩৩ বছর বয়সি একজন ব্রিটিশ নার্স। এছাড়া, একই ইউনিটের আরও ছয় শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে,
‘এই ঘটনাকে ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ শিশু সিরিয়াল কিলারের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
‘এই নার্স পাঁচ ছেলে শিশু ও দুই মেয়ে শিশুকে হত্যা এবং আরও কয়েকজন নবজাতককে আক্রমণ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।’
‘২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কাউন্টেস অব চেস্টার হাসপাতালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় লুসি ওই অপরাধ করেন।’
‘ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে ১০ মাসের বিচারের রায়ে লুসিকে সবচেয়ে ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল শিশু কিলারদের একজন বলা হয়েছে।’
উক্ত মামলার কৌসুঁলিরা জানিয়েছেন,
‘লুসি কয়েকটি শিশুর দেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন ও বাতাস ঢুকিয়ে এবং বাকিদের জোর করে দুধ খাইয়ে হত্যা করেছেন।’
‘কয়েকজন শিশুর ওপর একাধিকবার আক্রমণ করে তিনি তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।’
‘এই তদন্তের জন্য ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে লুসিকে দুই বার গ্রেফতার করে ব্রিটিশ পুলিশ।’
‘এরপর ২০২০ সালের নভেম্বরে আবার গ্রেফতার হন লুসি। পুলিশ তার বাড়ি তল্লাশির সময় তার লেখা একটি চিরকুট পায়।’
তাতে লুসি লেখেন,
‘আমি তাদের খুন করেছি, কারণ তাদের যত্ন নেয়ার মতো যথেষ্ট ভালো মানুষ আমি নই। আমি একজন ভীষণ খারাপ মানুষ। আমি শয়তান, আমিই এ কাজ করেছি।’
প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার (২১ আগস্ট) ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে লেটবিকে সাজা দেয়া হবে।
উক্ত রায়ে তার দীর্ঘদিনের জেল এবং খুব সম্ভবত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

Comments are closed.