আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস ও দ্য স্টার মালয়েশিয়া।
এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপস বেলানজা’। অল্প সময়ের মধ্যে কর্মকর্তারা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন।
অন্যান্য সময় বুকিত বিনতাং এলাকায় রাতভর পর্যটকদের আনাগোনা থাকলেও গতকাল রাতে কর্মকর্তারা তিনটি ব্লকে তল্লাশি চালানোর সময় কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হয়নি। এ সময় অনিবন্ধিত অভিবাসন প্রত্যাশীদের নথি যাচাই করা হয়। এ সময় অনেকে লুকিয়ে থেকে বা পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়া থেকে এই অভিযানে অভিবাসন বিভাগের ১০৬ কর্মকর্তা অংশ নেন।
ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, নেপাল ও ভারত থেকে যথাক্রমে ৩৭৭, ২৩৫, ৭২ ও ৫৮ জন পুরুষ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৭ জন পুরুষ ও দুই নারী আছেন। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের আরও তিন পুরুষ ও ছয় নারীও আটক হন।
বাসরি জানান, বেশিরভাগ মানুষকে আটকের কারণ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনুমতি ছাড়া চাকরি করা।
‘আটককৃতদের বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। তাদের সবাইকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পুত্রাজায়ার অভিবাসন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এরপর তাদেরকে বুকিত জলিল ও লেংগেং অভিবাসন ডিপোতে রাখা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চালানো হবে’, বলেন তিনি।

প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, আটককৃত অভিবাসন প্রত্যাশীদের অনেকেই দারিদ্র ও বেকারত্ব থেকে বাঁচতে মালয়েশিয়া এসেছেন।
বাসরি বলেন, সরকারি দপ্তরে ওই এলাকার অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিষয়ে অসংখ্য অভিযোগ আসার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি জানান, ‘তিন সপ্তাহ নজর রাখার পর গত রাতের অভিযান পরিচালিত হয়।’
তিনি আরও জানান, এই অভিযানের সময় একটি গোপন জুয়ার আড্ডা আবিষ্কার করা হয়েছে। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরাও রয়েছে। সাত -আটজন বিদেশি নাগরিককে অনলাইনে জুয়া খেলারত অবস্থায় সেখান থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের কাছে কোনো ভুয়া নথি পাওয়া যায়নি। তবে তাদের কাজ করার অনুমতি আছে কি না, বা আগে কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান বাসরি।

One Reply to “কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাংয়ে অভিযান, ৩৭৭ বাংলাদেশিসহ ৭৭০ বিদেশি আটক”
Comments are closed.