আল্লাহ তাআলা বলেছেন শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। এর অর্থ হলো শয়তান যে আমাদের শত্রু এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই। আমাদের পরিচিত কেউ শত্রু কি না তা নিশ্চিত না হয়েও তার বিরুদ্ধে অনেক কিছু করে থাকি কিন্তু শয়তান থেকে বেঁচে থাকতে কী করি?
কেউ যদি নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়ে তাহলে শয়তান তার থেকে সারাদিন দূরে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
أَعُوذُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ আউজুবিল্লাহিল আজিম ওয়া বিওয়াজহিহিল কারিম ওয়া সুলত্বানিহিল কাদিমি মিনাশ শাইত্বানির রাজিম। অর্থাৎ আমি মহান আল্লাহর কাছে, তার মহানুভব চেহারার কাছে, তার অনাদি-অনন্ত কর্তৃত্বের কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।
হযরত হায়াওয়াহ ইবনু শুরায়িহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমি হযরত উকবাহ ইবনে মুসলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলি, আমি জানতে পারলাম যে, আপনার কাছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে প্রবেশের সময় দোয়াটি বলতেন’।
হযরত উকবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু (প্রশ্ন রেখে) বললেন, এত টুকুই?
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ এবার হযরত উক্ববাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘কেউ এ দোয়া পড়লে শয়তান বলতে থাকে যে, এ লোকটি আমার (অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা) থেকে সারাদিনের জন্য বেঁচে গেল।’ (আবু দাউদ ৪৬৬)
মনে রাখা জরুরি
এ দোয়াটি শুধু মসজিদে প্রবেশের জন্য পড়ার দোয়াই নয় বরং সারাদিন শয়তানের আক্রমণ (অনিষ্টতা ও কুমন্ত্রণা) থেকে নিরাপদ থাকতে প্রতিদিন পড়া জরুরি। যদিও রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিতে প্রবেশ করতেই এ দোয়াটি পড়তেন। আর শয়তান সারা দিনের জন্য এ দোয়া পাঠকারী থেকে দূরে সরে যায়।
সুতরাং মুমিন মুসলমান প্রতিদিন যতবার মসজিদে প্রবেশ করবে ততবারই যদি এ দোয়াটি পড়া হয় তবে এ কথা সুনশ্চিত যে, শয়তান মানুষকে ধোঁকা দিতে পারবে না। বরং সে সারাদিনের জন্য শয়তানের অনিষ্টতা ও প্ররোচনা থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।

Comments are closed.