মুসলমানদের কাছে লাইলাতুল কদর এক বরকতময় ও মহিমান্বিত রাত।
কারণ এই রাতে আল্লাহ তাআলা কোরআনে কারিম নাজিল করেছেন এবং এই রাতের নামে আল্লাহ তাআলা একটি সুরা নাজিল করেছেন।
এই রাতের মর্যাদা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
তাফসিরে মাজহারিতে এসেছে, শবে কদর উম্মতে মুহাম্মদির একটা বৈশিষ্ট্য।
লাইলাতুল কদরের অর্থ
লাইলাতুন শব্দের অর্থ রাত, রজনী। ফারসিতে একে শব বলা হয়। আর কদরের অর্থ মাহাত্ম্য ও সম্মান।
এর সম্মানের কারণে একে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আবু বকর ওয়াররাক (রহ.) বলেন,
এ রাত্রিকে লাইলাতুল কদর বলার কারণ এই যে আমল না করার কারণে এর পূর্বে যার কোনো সম্মান ও মূল্য থাকে না,
সে এ রাতে তাওবা ইসতেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সম্মানিত হয়ে যায়। কদরের আরেক অর্থ তাকদির ও আদেশ।
কারণ এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি নিজ নিজ দায়িত্বে নিযুক্ত ফেরেশতার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদি ফেরেশতারা কে লিখে দেওয়া হয়।
এমনকি এ বছর কে হজ করবে—তাও লিখে দেওয়া হয়।
তাফসিরে কুরতুবির লেখক এ বিষয়ে একটি হাদিস উল্লেখ করেন,
আব্বাস (রা.) বলেন, ইসরাফিল, মিকাইল, মালাকুল মউত ও জিবরাইল (আ.)-কে এসব কাজ দেওয়া হয়।
তাফসিরে মাজহারিতে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা সারা বছরের তাকদিরসংক্রান্ত বিষয়াদির ফায়সালা শবেবরাতে সম্পন্ন করেন
আর শবেকদরে এসব ফয়সালা নিজ নিজ ফেরেশতাদের দ্বারা হস্তান্তর করা হয়।
লাইলাতুল কদরের ফজিলত
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে কদরের রাতে ঈমান
ও সওয়াবের নিয়তে নামাজ পড়ে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
অন্য বর্ণনায় আছে, ভবিষ্যতে সব গুনাহও মাফ করে দেওয়া হয়। উবাদা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘যে কদরের রাতের অন্বেষণে সেই রাতে নামাজ পড়ে এবং তা পেয়ে যায়, তার অতীত ও ভবিষ্যতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:

Comments are closed.