কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, গুলির যে তথ্য পাওয়া গেছে তার অনেকগুলোই পুলিশের রাইফেলের গুলি নয়।
শনিবার (৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তাহলে কারা গুলি করেছেন? দেখেছি যুবলীগের নেতা গুলি করেছেন— এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যুবলীগের নেতা তাদের বাধা দিতে গেছেন। গুলি করতে যাননি। ছাত্রলীগের নেতা কতজন মারা গেছেন, নিশ্চয়ই জানেন। আওয়ামী লীগের নেতা কতজন মারা গেছেন তাও জানেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। হয়তো দুই-একজন কিশোর মারা গিয়ে থাকতে পারে। তাদেরককে ঢাল হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছিল। শিশুদের আড়ালে অন্য একটি শক্তি ছিল। পেছনের শক্তিকে রুখতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিজের পদত্যাগ প্রশ্নে তিনি বলেন, এরকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করা তাহলে আমরা সেটা করব।
ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীরা কোনো আক্রমণের শিকার হবেন কি না— এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখন আপনাকে যদি কেউ মার দেয়, আপনি তাকে মার দেবেন না। আপনি কী বসে থাকবেন? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আত্মরক্ষার অধিকার দেওয়া আছে। আপনাকেও অধিকার দেওয়া আছে। আপনাকে যদি কেউ হামলা করে, তাহলে প্রাণ ও সম্পদ রক্ষায় আত্মরক্ষা করতে পারেন। এটা আইনগত অধিকার।
মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীরা এখন আর কোটা আন্দোলনে নেই, ছাত্রদের আন্দোলনে নেই। এটা এখন রাজনৈতিক আন্দোলনে চলে গেছে। কাজেই ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য যারা চেষ্টা করেছেন, তারাই এই কাজগুলো করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২ আগস্ট) বাংলাদেশে চলমান সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। শুক্রবার (২ আগস্ট) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ও অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সঞ্জয় উইজেসেকেরা।
