দেশে প্রথমবারের মতো রোবটিক প্রযুক্তি ভিত্তিক পুনর্বাসন সেবা শুরু:যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোবটিক প্রযুক্তি ভিত্তিক পুনর্বাসন সেবা শুরু হচ্ছে।

বৃস্পতিবার (১০ জুলাই) থেকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপারস্পেশালাইজড হাসপাতালে এ সেবা শুরু হচ্ছে।

তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুকে পোস্টে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোবটিক প্রযুক্তিভিত্তিক পুনর্বাসন সেবা শুরু হচ্ছে। আজ থেকে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এই সেন্টারের পাইলট প্রকল্প চালু হবে ।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘চীনের কারিগরি সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারে ৬২টি অত্যাধুনিক রোবটের মাধ্যমে প্যারালাইসিস, স্নায়ুবিক রোগ, দুর্ঘটনার পরবর্তী চিকিৎসা, ফিজিওথেরাপি এবং আরও নানা সেবা প্রদান করা হবে। স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন, বিশেষত জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে।’

দেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাব সেন্টারটিতে রয়েছে মোট ৬২টি রোবট, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক। এসব রোবটের মাধ্যমে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্টারটি চালুর আগে চীনের ৭ সদস্যের একটি বায়োমেডিকেল বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করলে এবং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেন্টারটি পুরোপুরি চালু করা হবে।

এই সেন্টার থেকে যেসব রোগী স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার ও দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা নিয়ে পুনর্বাসনের মধ্যে রয়েছেন তারা উপকৃত হবেন।

বিশেষ করে জুলাই মাসে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন এবং এখনও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভুগছেন, তাদের এই সেন্টারে বিনামূল্যে রোবটিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে

সেন্টারটি শুধু বিশেষ উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিকল্পিত নীতিমালার আলোকে সাধারণ রোগীদের জন্যও ধাপে ধাপে সেবা উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে চেষ্টা থাকবে চিকিৎসার ব্যয় রোগীদের আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে রাখার।

এই সেন্টার চালু হলে বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুনর্বাসন চিকিৎসায় এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। দেশীয় চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয় বরং পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠবে।

 

এনএএন টিভি