এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিনের মধ্যেই মারা গেছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা মারা গেছে, তাদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিনের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্তরা অনেক সময় দেরিতে হাসপাতালে আসছে।
ফলে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে বাড়িয়ে দিচ্ছে মৃত্যুর ঝুঁকি।’
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার জানিয়ে ডা. আবু জাফর বলেন, ‘দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হলে মৃত্যুর হার কমবে।
গত কয়েক দিনে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যের ডিজি। তিনি বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এমনটা দেখা যায়। গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনে মারা যান ৮ জন, জুলাইয়ে ১৪ জন, আগস্টে ৩০ জন এবং সেপ্টেম্বরে মারা যায় ৮৭ জন। সে বছরের জুনে রোগী ভর্তি হয়েছিল ৭৯৮ জন, জুলাইয়ে ২,৬৬৯, আগস্টে ৬,৫২১ এবং সেপ্টেম্বরে ১,৮৯৭ জন।
এ পরিসংখ্যান দেখে বলা যায়, সেপ্টেম্বরেই সবচেয়ে বেশি রোগী আক্রান্ত হয়েছে এবং মৃত্যুও ঘটেছে বেশি।
তিনি বলেন, ‘জনগণ সচেতন না হলে যত ব্যবস্থাপনাই নেওয়া হোক না কেন, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া খুব কঠিন।’
সাংবাদিকেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই রোগ যদি শুরুতেই চিহ্নিত করা না যায়, সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হয়, তাহলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আপনারা যেভাবে অতীতে আমাদের সহযোগিতা করেছেন, আশা করি মানুষের সচেতনতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবেন।’
এ সময় তিনি জানান, ডেঙ্গু শনাক্তে ব্যবহৃত এনএস১-কিটের পর্যাপ্ত মজুদ আছে।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পরিচালক এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
এনএএন টিভি
Like this:
Like Loading...
Related