বিএনপি চেয়ারপারসন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন: মির্জা ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

পেটে ব্যথা ও জ্বরের কারণে সোমবার মধ্যরাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর তার এক্সরে,

আলট্রাসনোগ্রামসহ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি করা হয় তাকে।

বর্তমানে হাসপাতালটির ৭ম তলায় (কেবিন নং ৭২০৩ ও ৭২০৪) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

আরও দু-এক দিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে।

এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,তিনি এখন অত্যন্ত অসুস্থ। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন,

খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তার অবস্থা এখনো আগের মতোই রয়েছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

অসুস্থ বোধ করার খবর পেয়ে সোমবার রাত ১২টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় যান ডা. অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও সেখানে যান।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে আলাপের পর রাতেই তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

রাত দেড়টার দিকে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের কালো রংয়ের একটি গাড়িতে হাসপাতালের উদ্দেশে বাসা থেকে রওয়ানা হন বিএনপি চেয়ারপারসন।

রাত ১টা ৪০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান।

একজন চিকিৎসক বলেন, হঠাৎ পেটে ব্যথার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ব্যথা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অর্থাৎ হৃদযন্ত্রের কোনো সমস্যা কিনা তা নির্ণয়ের চেষ্টা করছে মেডিকেল বোর্ড।

কেননা একেবারে কোনো লক্ষণ ছাড়াও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে।

তবে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চেয়ারপারসনের বড় ধরনের কোনো সমস্যা এখনো ধরা পড়েনি।

আরও কিছু পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। সব রিপোর্ট পেলে শারীরিক অবস্থা বোঝা যাবে।

এর আগে ৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর ৪ মে বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গত বছরের ১০ জুন গভীর রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে ভর্তি হয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

পরে দ্রুত এনজিওগ্রাম করে তার হার্টে একটি রিং বসানো হয়। হার্টের দুটো ব্লক এখনো রয়ে গেছে।

৭৮ বছর বয়সি খালেদা জিয়া হার্টের সমস্যা, লিভার সিরোসিস ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে তার।

কারাগার থেকে বেরোনোর পর চিকিৎসার জন্য আট দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।

এনএএন টিভি