জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা দেশের সংস্কার চেয়েছি, বিচার চেয়েছি, নতুন সংবিধান চেয়েছি। কিন্তু এসব জনদাবির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে একটি পক্ষ।তারা পুরাতন বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাজনীতি করতে চায়।তারা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে টিকিয়ে রাখতে চায়।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে এতো মানুষের জীবন যাওয়ার পরেও যদি তারা মনে করে পুরাতন রাজনীতি করবে।তাহলে তা এত সহজ হবে না।গণঅভ্যুত্থানের শক্তি এখনো মাঠে আছে।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড মোড়স্থ আসিফ চত্বরে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, ‘আমরা ঢাকায় দেখলাম…চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। জনগণকে আজ বলতে হচ্ছে, অভ্যুত্থানকারী ছাত্র নাগরিকদের আজ বলতে হচ্ছে, আপনাদের আবারও প্রস্তুতি নিতে হবে, আবারও মাঠে নামতে হবে, বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে হবে। শহীদরা এই দায়িত্ব আমাদের দিয়ে গেছে।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বলবো, আগের আমলে আমরা দেখেছি গুটি কয়েক ব্যবসায়ী মাফিয়ায় পরিণত হয়েছিল। সেই মাফিয়াদেরকে এখন আবার একটি রাজনৈতিক দল সমর্থন দিচ্ছে, প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর অন্যদিকে আমাদের ক্ষুদ্র-মাঝারি, খেটে খাওয়া ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সব দেশপ্রেমিক ব্যবসায়ীদের আমরা রক্ষা করব। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিকে আমরা চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষা করব।’
নাহিদ বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে খুলনা শিল্পনগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। সেই শিল্পগুলো একের পর এক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই আবার সেই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে চালু করতে হবে, আবারও পাটকল চালু করতে হবে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি দিতে হবে।’
‘আমরা জানি, শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা পৃথিবীর অনন্য নিদর্শন সুন্দরবন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করে সুন্দরবনকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হয়েছিল। ভারতের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিভিন্ন দুর্যোগে সুন্দরবন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায়, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নাগরিক পার্টি, গনঅভ্যুত্থানের সকল ছাত্র-তরুণ এখনো মাঠে রয়েছে। আপনারা যতই চেষ্টা করুন, যতই ষড়যন্ত্র করুন, আমাদেরকে মাঠ থেকে সরাতে পারবেন না, জনগণের পক্ষে আমরা মাঠে থাকব।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। এই শহীদ পরিবাররা নতুন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজের সংস্কৃতি দেখতে চায়নি। এই শহীদরা সন্ত্রাসীদের জন্য, চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যের জন্য জীবন দেয়নি। আমরা বলেছিলাম, আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। আর তারা ভেবেছিল তারা লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছে। যদি ভেবে থাকে লুটপাটের স্বাধীনতা পেয়েছে, খুবই ভুল ভাবছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণ যেভাবে রাজপথে নেমেছিল, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একইভাবে রাজপথে নামতে হবে, আপনারা প্রস্তুত হন। আমরা ঢাকা আসছি। ৩ আগস্ট এসব কিছুর জবাব দেওয়া হবে।’
