জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ করবে ছাত্রদল। এ সমাবেশে অংশ নিতে জেলা ও মহানগর থেকে আসছেন নেতাকর্মীরা। রোববার সকাল থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর ইউনিটের নেতাকর্মীরা শাহবাগ এলাকায় আসতে শুরু করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, আজকের এই ঐতিহাসিক সমাবেশে সারা দেশ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছে। শাহবাগ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জনসমুদ্রে পরিণত হবে। আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করবো।
এদিকে নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান বাদশার নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী সকাল ৭টায় শাহবাগে পৌঁছান। আগের রাতেই তারা বাসে রওয়ানা হয়েছিলেন।
ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, এই সমাবেশ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাদের লড়াইয়ের একটি প্রতীক। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতেই আজকের এই আয়োজন। এছাড়াও সমাবেশ সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীরা কোনো ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড বহন করেননি। রাতে সমাবেশস্থলে আসা নেতাকর্মীরা শাহবাগ জাদুঘরের সামনে ফুটপাত এবং সমাবেশের জন্য বানানো অস্থায়ী মঞ্চে রাতযাপন করেছেন। সকালে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আশপাশে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা।
এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছে ছাত্রদল। সংগঠনের দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত জুন মাসে আমরা আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণায় শুরুতে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করি; কিন্তু পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা ৩ আগস্ট শহিদ মিনারে তাদের সমাবেশ করার বিষয়ে আমাদের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার যোগাযোগ ও অনুরোধ করেন।
শহিদ মিনারের সমাবেশের বিষয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে অনুমতিও নিয়েছিলাম। এ দিনে শহিদ মিনারে সমাবেশ করার বিষয়ে আমরাই ছিলাম একমাত্র বৈধ দাবিদার; কিন্তু পরে একটি উদার, গণতান্ত্রিক, পরমতসহিষ্ণু, সব মত ও পথের সহাবস্থানে বিশ্বাসী ছাত্রসংগঠন হিসেবে আমরা শহিদ মিনারে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যস্ত রাজধানীতে কর্মদিবসে সমাবেশের জনভোগান্তি সম্পর্কে আমরা অবগত। তার পরও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় দিনটিতে আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির বৃহৎ ঐক্যের স্বার্থে বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন হিসেবে দায়িত্বশীলতা ও উদারতার জায়গা থেকে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগের জন্য অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রত্যাশা করছি, নগরবাসী বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

3 Replies to “ছাত্রদলের সমাবেশে যোগ দিতে আসছেন নেতাকর্মীরা”
Comments are closed.