কথা বলে জানা গেল, তিনি আসন্ন রাকসু নির্বাচনে ‘মিডিয়া ও প্রকাশনা’ পদে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। আজ তিনি ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা দিয়েছেন। কবে ফলাফল পাওয়া যাবে জানতে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন।
শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার জীবনটা সংগ্রামের। পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও শেষ করতে পারিনি। অনেক বছর পর আবার পড়াশোনা শুরু করি। আমার এখন বয়স চলে ৫১ বছর। আমার দুই ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। আমার চার মেয়ে আছে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বড় মেয়ের স্বামী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। আমার তিন মেয়েও পড়াশোনা করছেন।’ তিনি বলেন, ৫১ বছর বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁকে পরিবারেরও হাল ধরতে হয়। পরিবার ও লেখাপাড়া চালাতে হিমশিম খেতে হয়। বিভাগ ও সংস্থা থেকে কিছু বৃত্তির টাকা পান। বিভাগের শিক্ষকেরা খুব উৎসাহ দেন। রাজশাহীতে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করা যায় না। তবু রাজশাহী টেক্সটাইল কারখানায় চাকরির একটি আবেদন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি নিয়ে শাহরিয়ার বলেন, তাঁর দুই ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ায় তিনি সেখানে দীর্ঘদিন ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৫ বছর পড়েছেন। সেখানেও দেখেছেন, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের আশা-প্রত্যাশা-স্বপ্ন হরণ করেন। তাঁরা মুখে বলেন এক, কিন্তু কাজে অন্য। এই দিকটা ভেবেই তিনি রাকসু নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৫১ বছর বয়সী কাউকে যদি শিক্ষার্থীরা ভোট দেন, তিনি তাঁদের জন্য চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘সংগ্রামী মানুষ হিসেবে আমি মনে করি, বয়স কারও কাছে বাধা থাকে না। যেমন আমার শিক্ষায় কোনো বাধা আসেনি। তেমনই রাকসু নির্বাচনেও আমার কোনো বাধা আসবে না বলে মনে করি।’
দুপুরে রাকসু কার্যালয়ে গেলে সংবাদকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরেন। তখন সেখানে থাকা কিছু শিক্ষার্থী জানতে চান, তিনি প্রার্থী কি না? জবাবে বলতে থাকেন, তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বয়স ৫১। এ সময় রাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মো. সেতাউর রহমান উপস্থিত হন। তিনিও অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কি প্রার্থী?’ উত্তরে শাহরিয়ার জানান, তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এ ব্যাপারে সেতাউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী হয়ে থাকলে যে কেউ নির্বাচন করতে পারবেন। শাহরিয়ারের বয়স বেশি হলেও সমস্যা নেই।
