কানাডায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে আবারও হয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশটির সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ৩ শতাংশ। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে আরও বিপাকে পড়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ।
গত সোমবার প্রকাশিত কানাডার জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ভোক্তা মূল্যসূচকসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কানাডায় জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
একই সময়ে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আগস্টে এ বৃদ্ধির হার ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বার্ষিক হিসাবে বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগস্টের ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু গাড়িচালকদের ব্যয় বাড়াচ্ছে না, বরং পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও বিভিন্ন ব্যবসার পরিচালন ব্যয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। এসব ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর প্রভাব কানাডার অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে আটলান্টিক কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে।
কানাডায় বাড়িভাড়া, খাদ্যপণ্য, পরিবহন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপের মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটকে আরও সংকুচিত করছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং যাঁদের কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের ব্যয় সামলাতে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচকের বৃদ্ধি সব পণ্যের দাম একই হারে বেড়েছে—এমনটি নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। ফলে আগামী মাসগুলোতে জ্বালানির দাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতি কানাডার অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে।
