নিয়মমতো প্রতিদিন হাঁটার চেষ্টা করুন, এতে উন্নত হবে আপনার জীবনযাত্রার মান
নিজেকে সুস্থ-সবল রাখতে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটলে স্ট্যামিনা বাড়ে, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়, মানসিক চাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত যে হাঁটা স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা, একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ধরে নিয়মিত হাঁটা সুস্বাস্থ্য ও ভালো ঘুমের জন্য উপকারী।বিশেষজ্ঞরা বলছেন অনেকের আবার পায়ে সমস্যা থাকে। সে ক্ষেত্রে আবার একটানা হাঁটতে মানা করেন চিকিৎসকরা। সে ক্ষেত্রে যদি আপনি একেবারে ৩০ মিনিট হাঁটতে না পারেন তাহলে নিয়মিত ১০ মিনিটের ছোট ছোট ব্যায়ামও করতে পারেন, দিনে ৩ বার হাঁটুন।
হাঁটা সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম। ওজন কমাতে, হার্ট সুস্থ রাখতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ বা রক্তের চর্বি কমাতে যত ধরনের শরীরচর্চা আমরা করি, এসবের মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর হলো হাঁটা। আনন্দদায়ক ব্যায়ামও বটে। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, কখন হাঁটা ভালো। সকালে হাঁটলেই বেশি ফল মিলবে নাকি বিকেলে হাঁটব? দ্বিধা কাটাতে জেনে নেওয়া যাক কোন সময় হাঁটলে সবচেয়ে বেশি উপকার।
কেউ কেউ বলেন সকালে হাঁটা ভালো।প্রকৃতপক্ষে, দৈনন্দিন কাজের ওপর নির্ভর করে আপনার জন্য কখন হাঁটা ভালো।
সকালে হাঁটার উপকারিতা
বেশির ভাগ মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাঁটতে বের হতে পছন্দ করেন। সকালের শান্ত পরিবেশ, নির্মল বাতাস, পাখির কিচিরমিচির ডাক শুধু যে শরীর ভালো রাখে, তা নয়; মন হয় প্রশান্ত। সারা দিনের কাজের স্পৃহা বাড়াতে যা খুব জরুরি।
সকালে হাঁটা মানে আপনার শরীর ও মনে একটি রিসেট বোতাম টিপে দেওয়া। এই সময়ের হাঁটাচলায় ফুসফুস তাজা বাতাসে ভরে ওঠে।
খালি পেটে বা নাশতার আগে হাঁটার কারণে ফ্যাট বার্ন বেশি হয়। সকালে কর্টিসল লেভেল বেশি থাকে, তাই যাঁদের পেটে চর্বি বেশি, তাঁদের ওজন কমাতে সকালে হাঁটা অনেক বেশি কার্যকর।
যাদের সকালে হাঁটার অভ্যাস, তাঁরা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোরে ওঠেন। ফলে শরীরের সারকাডিয়ান রিদম ভালো থাকে।
সকালের মিষ্টি রোদ কিন্তু শুধু আপনার মনই ভালো করবে না, ভিটামিন ডির অভাবও মেটাবে। ভিটামিন ডি আপনার হাড়ের গঠন ও ত্বকের জন্য উপকারি।
মর্নিংওয়াকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখসহ অনেক রোগবালাই দূরে থাকে।
সারা দিন নানা কাজের ব্যস্ততায় বা হঠাৎ করেই অফিসের কোনো মিটিং বা পারিবারিক কাজ আপনার বিকেলের হাঁটার পরিকল্পনা সহজেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সকালে যদি নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস একবার হয়ে যায়, তাহলে দিনটা একটা রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসা সহজ হয়ে যায়।
বিকেলে হাঁটার উপকারিতা
- আপনি যদি রাতজাগা পাখি হন, সকালে অফিস বা সন্তানের স্কুল নিয়ে হিমশিম খেতে থাকেন, তবে আপনার হাঁটার জন্য ভালো সময় বিকেল।
- বিকেলে হাঁটলে রাতের ঘুম ভালো হয়। দিনের চাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং মন শান্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- বিকেলে হাঁটার সবচেয়ে ভালো দিক হলো খাবারের পর রক্তের সুগার লেভেল কমে। তাই যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁদের জন্য বিকেলে হাঁটা ভালো।
- হজমে সাহায্য করে। যাঁদের পেট ফোলাভাবের মতো সমস্যা আছে, বিকেলে হাঁটলে তা অনেকাংশে কমে আসে।
- বিকেলে হাঁটলে সারা দিনের ক্যালরি বার্ন হয়, ফলে ওজন কমে।
- পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে হাঁটতে গেলে সুন্দর সময়ও কাটানো যায়, যা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
- সকালে নাকি বিকেলে হাঁটবেন, এটা পুরোপুরি নির্ভর করবে আপনার নিজের কাজ ও সময়ের ওপর। তবে কিছু সুবিধা উভয় সময়েরই আছে, যেমন সকালে হাঁটলে ফ্যাট বার্ন বেশি হয় আবার বিকেলের হাঁটা রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো।তবে আপনি যে সময়ই হাঁটুন না কেন, কমপক্ষে ৩০ মিনিট দ্রুত ও নিয়মিত হাঁটুন।
- এন এ এন টিভি

One Reply to “হাঁটা কখন ভালো, সকালে নাকি বিকেলে”
Comments are closed.