পাইকগাছায় রেমালের প্রভাবে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানিবন্দী দেড়লক্ষ মানুষ

খুলনার পাইকগাছায় রেমালের প্রভাবে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারনে ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ১০ টি ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘার চিংড়ি ঘের  ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১০টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।
উপজেলার  সোলাদানা বাজার সংলগ্ন সোলাদানা-পাইকগাছা মেইন সড়কের স্লুইচ গেট নামক স্থানে ভেঙ্গে উপজেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সোলাদানা ইউনিয়নের ১৩টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে বলে জানিয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক।
এছাড়া, উপজেলার গড়ইখালী, দেলুটি, সোলাদানা, লস্কর, লতা ও কপিলমুনি ইউনিয়নের দুর্বল ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লবন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের ও বাড়িঘর। ডুবে গেছে পুকুর। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা দুর্বল ভেড়িবাঁধ গুলি মেরামত করার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ওয়াপদা ছাপিয়ে পোল্ডার অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করায় দুর্বল ভেড়িবাঁধ গুলি ভেঙ্গে যায়।
গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জি এম আব্দুস ছালাম কেরু জানান, শিবসা নদীর পাড়ে খুদখালী নামক স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এলাকাবাসির সহযোগিতায় ভেঙ্গে যাওয়া স্হানটি জিও ব্যাগ দিয়ে আটকানো হয়েছে। লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান কে, এম আরিফুজ্জামান জানান, লস্কর ইউনিয়নে আটটি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, আমার ইউনিয়নটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। তার মধ্যে ২০,২০(১)ও ২১ এই তিনটি পোল্ডারে প্রায় ১৩টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে।
লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস জানান তার ইউনিয়নে হাড়িয়া,লতা ও পুতলাখালীর কয়েক স্থানে ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এদিকে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রশীদুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্হ এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধ মেরামতের কাজ তদারকি করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন জানান,ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ গুলো উপজেলা প্রশাসন,পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগনের সার্বিক সহযোগিতায়  ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।
এনএএন টিভি/ তৃপ্তি রঞ্জন সেন