সবচেয়ে পাতলা আইফোনের নকশা করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবিদুর চৌধুরী

আইফোন এয়ার
আইফোন এয়ার এএফপি

আইফোন এয়ারের পুরুত্ব আগের মডেলের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। একটি একক ক্যামেরা আছে এই ফোনে। আইফোন এয়ারের টেলিফটো লেন্সটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবিকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে। নতুন ফোনের ব্যাটারি ছোট হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সফটওয়্যার এটিকে সারা দিন সচল রাখতে সাহায্য করে। আইফোনের উন্মোচন অনুষ্ঠানে আবিদুর নতুন ফোনটিকে বিশেষ বিস্ময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আবিদুর চৌধুরী নিজের ওয়েবসাইট ও লিংকডইনে লিখেছেন, ‘আমার জন্ম লন্ডনে হলেও বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে অ্যাপলের একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছি।’ আবিদুর নিজে সমস্যা সমাধান করতে ভালোবাসেন ও নতুন কিছু শেখা উপভোগ করেন। তিনি এমন পণ্য তৈরি করতে অনুপ্রাণিত, যা ছাড়া মানুষ থাকতে পারে না।

আবিদুর চৌধুরীর লিংকডইন অ্যাকাউন্টের তথ্যমতে, তিনি যুক্তরাজ্যের লাফবরো ইউনিভার্সিটি থেকে প্রোডাক্ট ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। থ্রিডি হাবস স্টুডেন্ট গ্র্যান্ট, জেমস ডাইসন ফাউন্ডেশন বার্সারি, নিউ ডিজাইনারস কেনউড অ্যাপ্লায়েন্সেস পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি সেমুর পাওয়েল ডিজাইন উইক প্রতিযোগিতায় প্রথমও হয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি প্লাগ অ্যান্ড প্লে প্রকল্পের জন্য মর্যাদাপূর্ণ রেড ডট ডিজাইন পুরস্কার লাভ করেছিলেন।

আবিদুর চৌধুরী তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ কনসালট্যান্ট ও কারভেন্টায় ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে লন্ডনের একটি ডিজাইন স্টুডিও লেয়ারে শিল্পনকশাকার হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন এজেন্সি, স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।

২০১৯ সালে আবিদুর ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপলে একজন শিল্পনকশাকার হিসেবে যোগ দেন। এর পর থেকে তিনি অ্যাপলের সবচেয়ে উদ্ভাবনী ডিভাইস তৈরির দলে সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। সদ্য উন্মোচিত আইফোন এয়ারও তাঁর এ কাজেরই একটি অংশ।

২০১৮ সালে আবিদুর আইএমজি নামের একটি প্রকল্প শুরু করেন। ডিজিটাল ক্যামেরাকে নতুন আঙিক দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একটি ক্যামেরাকে ফটোগ্রাফির মতোই ব্যক্তিগত ও অভিব্যক্তিপূর্ণ করে তোলার উপায় খুঁজে বের করেন আবিদুর।
নিজের ওয়েবসাইটে আবিদুর লিখেছেন, ‘আমার জন্ম লন্ডনে। বড় হয়েছি ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে। যখন আমি ডিজাইন বা স্কেচ করি না, তখন ইউকুলেল বাজাতে পছন্দ করি। আমার সাইকেল চালাতে ও চারপাশের ছবি তুলতে ভালো লাগে। রক ক্লাইম্বিং করতে পছন্দ করি। আমার শখ আমাকে সৃজনশীল রাখতে সাহায্য করে। প্রায়ই অনুপ্রেরণা দেয়।’

সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম