নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা হাজী বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী ছমিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে । গতকাল রবিবার রাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র দাস জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা, ফাতেহা ইয়াজদাহুম ও লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে বিদ্যালয়ে ছুটি চলছে। এ সময়ে গতকাল রবিবার(২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের পূর্ব-উত্তর কর্ণারের দুই পিলারের সমপরিমাণ সীমানা প্রাচীর কে বা কাহারা ভেঙে ফেলে।
প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টি ১৯৩৬ সালে ৫০ শতক জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৮ সালে সীমানা প্রাচীর নির্মিত হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী ছমির হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ জামালকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, “আমাদের জায়গা আমরা ভেঙেছি, আপনি এখানে চাকুরি করতে এসেছেন, চাকুরি করুন।”
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক তাপস চন্দ্র দাস গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিতভাবে প্রতিকার চান।
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসিম ফারুকী জানান , যেহেতু বিদ্যালয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং তার ওপর সার্বিক দায়িত্ব বর্তায়, তাই রাতের অন্ধকারে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ছমির হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ জামালকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ভাঙচুরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের চলাচলের কোন পথ না থাকায় আমরা গেইট নির্মাণ করার জন্য পাশের প্রাচীর ভেঙেছি। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে বসে আমরা সমস্যার সমাধান করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাবেয়া আসফার সায়মা বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ প্রধান শিক্ষক থেকে পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

One Reply to “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙলেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক”
Comments are closed.