বিলুপ্তির পথে গ্রামীন ঐতিহ্য জনপ্রিয় কাঠের ঢেঁকি

গ্রামীন জনপদে এখন আর শোনা যায়না ঢেঁকির ঢিপ ঢিপ শব্দ। চাল কৌটায় ঢেঁকির তালে কত প্রবাদ গাওয়া হতো গ্রাম্য মেয়েদের। সেটিও দেখা মেলেনা। ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় সেই ঢেঁকি বিলুপ্তি প্রায়।

একসময়ে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এসব ঢেঁকির সাহায্য চাল পিষিয়ে কত রকমের পিঠাপুলি বানানো হতো সারারাত ধরে কতইনা গল্প আড্ডার ছলে। গ্রাম বাংলার ঢেঁকির অপরূপ দৃশ্য বিমোহিত করতো সববয়সী লোকজনদেরকে।

জানা যায়, ইসলামপুর,ইসলামাবাদ,জালালাবাদ, পোকখালী ও ঈদগাঁও ইউনিয়নের পাড়া মহল্লার এখন আর দেখা মেলেনা পূর্বেকার সময়ের জনপ্রিয় সেই কাঠের ঢেঁকির। নতুন প্রজন্মের কাছে অপরিচিত একটি যন্ত্র হতে পারে এটি। প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়া ঢেঁকির কদর নেই। ঢেঁকি ছাঁটা চাল মানবদেহের জন্য অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ছিল বলেও জানালেন বয়োজ্যেষ্ঠরা।

এলাকার প্রবীণ মুরব্বি আহমদ হোসন জানান, আগে মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল কাঠের ঢেঁকি। গ্রামে গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে কান পাতলি ভেসে আসতো ঢেঁকিতে চাল কোটার শব্দ। ঢেঁকির শব্দ মুখরিত হত পাড়া গাঁ। সেসব এখন শুধুই অতীত। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আর আধুনিকতার আদলে বিভিন্ন উন্নত মানের যন্ত্রপাতির কারণে হারাতে বসেছে এই ঢেঁকিতে চাল কোটার দৃশ্য।

মাহমুদা নামের এক নারী জানান, ঢেঁকিতে চাল কোটা কষ্টকর। তবে ঢেঁকির চাল কৌটার পিঠা অনেক সুস্বাদু ছিল। সে কাঠের ঢেঁকি এখন নেই। তার স্থলে আধুনিক যন্ত্র। উঠতি প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ঢেঁকি কি সেটিও জানেনা।

এনএএন টিভি / এম আবু হেনা সাগর