কুষ্টিয়ায় কামড়ের পর বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপ মেরে ব্যাগে ভরে নিয়ে নিজেই হাসপাতালে ছুটে
আসলেন জাহিদুল ইসলাম রাজা (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ী।
গড়াই নদে শখের বসে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন জাহিদুল।
মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদের পাশে বালুচরে অস্থায়ী টং ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তার ডান পায়ে কিছু একটা কামড় বসায়।
টর্চ জ্বেলে তিনি দেখতে পান ছোট্ট একটি কালো রঙের সাপ। সাপটি দেখতে পেয়ে লাঠি দিয়ে তিনি সাপটিকে মেরে ফেলেন।
সাপটিকে মেরে একটি ব্যাগে ভরে সোজা মরা সাপটিকে নিয়ে ছুটে আসেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাপটিকে বিষধর রাসেল ভাইপার বলে শনাক্ত করেন।
মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে সদর উপজেলার জুগিয়া বটতলা এলাকায় গড়াই নদের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
রাত ১১ টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি হন জাহিদুল ইসলাম ওরফে রাজা (৫৪) নামের ওই লোহার ব্যবসায়ী।
রাজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া হাটপাড়ায় এলাকায় সামছুল আলমের ছেলে। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাতে জাল নিয়ে মাছ ধরতে বাড়ির পাশের গড়াই নদে যান।
মাছ ধরের এক পর্যায়ে ‘টংঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ তাঁর ডান পায়ে কিছু একটা কামড় বসায়। টর্চ জে¦লে তিনি দেখতে পান ছোট্ট একটি কালো রঙের সাপ।
সাপটি দেখতে পেয়ে লাঠি দিয়ে তিনি সাপটিকে মেরে ফেলেন। নিজেই নিজের পা বেঁধে ফেলেন।
এর পর চরে বালুকাটা লোকজনকে ডেকে সাপটা ব্যাগে ভরে সোজা হাসপাতালে ছুটে আসেন।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন,
‘রাসেল ভাইপার সাপটি খুবই ছোট। তবে সাপটির পেট বেশ ফোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ছোবল দেওয়ার আগে সাপটি কিছু খেয়েছিল।
এ জন্য হয়তো বিষ নাও থাকতে পারে। জাহিদুলকে ভ্যাকসিন (অ্যান্টি ভেনম) দেওয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩ জুলাই পাট ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়ার সময় জাহিদ প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তিকে ডান হাতে ছোবল বসায় বিষধর রাসেলস ভাইপার।
সাপটিকে তিনি মেরে ফেলে মরা সাপটিকে নিয়েই ছুটে যান স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখান থেকে জাহিদকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন।
সাপটিকে মেরে ফেলেন তিনি। জাহিদের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর চরপাড়া গ্রামে।
