মসজিদ নির্মানে বাধা ও মাদ্রাসা ও পাঠাগারের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা. শিবগঞ্জের মসজিদ নির্মাণে বাধা,,হাফিজিয়া মাদ্রাসার স্থলে নুরানী মাদ্রাসা চালু ও মাদ্রাসা ও পাঠাগারের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর গত ০২ এপ্রিল ও গত ১৪ এপ্রিল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর আবেদনের পর কোন প্রতিকার না কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গত ২৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবর আবারো আবেদন করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর উপেটোলা গ্রামে। তবে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন।

এলাকার প্রায় এক শো জনের স্বাক্ষরিত গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ খ্রী: তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন সূত্রে জানা গেছে মোবারকপুর উপটোলা গ্রামে মসজিদের নামে আলহাজ সিদ্দিক বিশ^াসের দান করা রেজিস্ট্রিকৃত জমিতে গত ২১ মার্চ ২০২৫ খ্রী: তারিখে এলাকাবাসী মসজিদ নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন করতে গেলে মাদ্রাসার সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ঈশারুর হক দলবল নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা প্রদান করে। একই ভাবে গত ২৬ মার্চ মসজিদের কাজে বাধা প্রদান করে বলেন জমি মাপের প্রয়োজন আছে বলে ২৭ মার্চ জমি মাপের ধার্যকৃত দিনে তারা না ্ এসে বরং গত ২৯ মার্চ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক ও মোবারকপুর উপরটোলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাকিব উদ্দিন বাড়ি আসলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী প্রদান করেন। ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তিনি মারা যান। এ ঘটনার জের ধরেই গত ০৭ এপ্রিল মসজিদ কমিটির সদস্য ময়জুল ইসলাম শিবগঞ্জ বাড়ি ফিরার সময় ধোপপুকুর এলাকায় মাদ্রাসার সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ঈশারুল হক সহ ১০/১২জন তার ওপর হামলা চালায় এবং তার বাড়িঘর ভাংচুর করে। আবেদন সূত্রে আরো জানা গেছে মাইনুল ইসলাম,মবিনুর রহমান সহ কয়েকজন দাতা হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য জমি দান করলে না করে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি রফিকুল ্ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ঈশারুল হক কৌশলে নুরানী মাদ্রাসা চালু করে দাতার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। একই স্থানে ইসলামী পাঠাগারের উন্নয়নের নামে ১৫/১৬ বছর ধরে তাফসির ও বিভিন্ন দাতাদের দেয়া প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ঈশারুল হক ও তার লোকজন।

মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টয়লেট পরিস্কার ও মাদ্রাসার ঘর পরিস্কার করানো হয়। মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর করে এবং সাম্প্রতিককালে মাদ্রাসার একটি ঘরে পাঁচজন শিক্ষার্থীকে ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। যা অমানবিক।হাফিজিয়া মাদ্রাসার স্থলে নূরানী মাদ্রাসা চালু করলেও গত ৬/৭ বছর থেকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া মাদ্রাসার নামে আদায়কৃত টাকার কোন হিসাব দিচ্ছে না। বরং হিসাবের কথা বললেই অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ও হুমকী দেখায়। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। মাদ্রাসা নির্মাণে বাধা দেয়া হয়নি। শুধু জমি মাপের কথা বলা হয়েছিল। পাঠাগারের অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। অতীতে ছিল । পাঠাগারের প্রায় ৫০/৫৫হাজার টাকা মাদ্রাসার ফান্ডে জমা দেয়া হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আব্দুর রাকিব খুব ভাল মানুষ ছিলেন। দুই প্রæপের কথাকাটাকটির সময় তিনি থামাতে ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই খলিলুর রহমান জানান,গত ১৪ এপ্রিলের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ এপ্রিল ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলাম। বাদীকে পাইনি। অন্যকোন লোকজনকেও পাইনি। গিয়ে আর্টাকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা যান। বর্তমানে কোন ঝামেরা নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিষার মো.আজাহার আলি জানান.আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে ডাকা হয়েছিল।তবে সেদিন অনিবার্য কারণবশত: আলোচনায় বসা হয়নি। খুব শীঘ্রই উভয় পক্ষকে ডেকে ঊভয় পক্ষের শুনানীর মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য যে ০২ এপ্রিল ; ২০২৫খ্রী; তারিখে এলাকাবাসীর প্রায় ৯২জন স্বাক্ষরিত একটি আবেদন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর করার একমাস পার হয়ে গেলেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গত ২৪ এপ্রিল আবারো প্রায় শ খানে জনগণের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর করা হয়েছে।

এনএএন টিভি / মোহা. আহসান হাবীব

Share this news as a Photo Card