গরুর দুধ নাকি নন-ডেইরি দুধ, কোনটি শিশুদের জন্য ভালো?

বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চাদের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হিসাবে বিবেচনা করা হয় গরুর দুধকে। কিন্তু আধুনিক অনেকে বাবা-মা শিশুদের গ্লাসে গরুর দুধের পরিবর্তে অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত দুধ তুলে দিচ্ছেন। যেমন- আলমন্ড বাদামের দুধ বা নারকেলের দুধ ইত্যাদি। অনেক বিশেষজ্ঞ একে ভালো বলে মত দিলেও অনেকে মতে, এতে বাচ্চারা বেশ কিছু পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গরুর দুধের পুষ্টি উপাদান : আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স এর মুখপাত্র ড. তানিয়া রেমার আল্টম্যান বলেন, গুরুর দুধে এমন কিছু পুষ্টি রয়েছে তা বাড়ন্ত শিশুদের জন্য খুবই জরুরি। এতে রয়েছে সঠিক পরিমাণে ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট এবং ৯টি অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। প্রতি কাপ গরুর দুধে ৮-১০ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন ডি।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স জানায়, শিশুদের এক বছর পর থেকেই গরুর দুধ খাওয়ানো জরুরি।
গরুর দুধ কী জরুরি? : সিয়াটল চিলড্রেন্স হসপিটাল এর ড. উইন্ডি সু সোয়ানসন বলেন, মানুষের জন্য গরুর দুধ খুবই দরকারী। বাচ্চাদের ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ফ্যাটের জন্য গরুর দুধের বিকল্প নেই। মায়ের বুকের দুধের পর গরুর দুধেই রয়েছে দেহের জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি পুষ্টি উপাদান।

তবে অনেক বিজ্ঞানীর মতে, গরুর দুধে ক্যালসিয়াম থাকলেও তা সবচেয়ে ভালো উৎস নয়। হাড় গঠনে যে ক্যালসিয়াম দরকার হয় তার জন্য বেশি কাজের সবুজ ও সতেজ শাক-সবজি। গরুর দুধের ক্যালসিয়াম ৩২ শতাংশ পর্যন্ত গৃহীত হয় দেহে। কাজেই প্রচুর দুধ খাওয়া মানেই যে, প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাচ্ছেন তা নয়।
সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ৩৯ বছর পেরুনো নারী-পুরুষ যারা বেশি বেশি গরুর দুধ খান তাদের হাড়ে ফ্র্যাকচার ঘটার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়।

আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ ১ ডায়াবেটিস যাদের আছে গরুর দুধে তাদের অটোইমিউন ডিসওর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
নন-ডেইরি দুধ : অন্যান্য উৎস থেকে প্রস্তুতকৃত দুধেও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কানাডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব শিশু নন-ডেইরি দুধ খায় তাদের মধ্যে ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা দেয়। তা ছাড়া অ্যালার্জি দেখা দেয় ভিন্ন উৎসের দুধে। আবার সয় মিল্কের সামান্য পরিমাণ ইস্ট্রোজেন শিশুর বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বলে জানান ড. আল্টম্যান।
তা ছাড়া চাল থেকে প্রস্তুত দুধও উপকারী। কিন্তু এর গুণগতমান নির্ভর করে চালের গুণগত মানের ওপর।
আধুনিক বিজ্ঞান : আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স জানায়, এক বছর বয়স পেরুলে শিশুদের গরুর দুধ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা ২৪ আউন্সের বেশি নয়। গরুর দুধ ভিটামিন ডি এর ভালো উৎস। আবার নন-ডেইরি দুধও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের উৎস বলে বিবেচিত হতে পারে। মূলত শিশুরা কিছুটা বেড়ে উঠলে ওদের আর দুধের প্রয়োজন হয় না। তখন প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, ফাইবার, শক্তি এবং ফ্যাট গ্রহণের।

এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card