জবি শিক্ষার্থী খাদিজার মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে মশাল মিছিল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিতার্কিক খাদিজাতুল কুবরা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় প্রায় আট মাস ধরে কারাগারে আটক আছেন।

তার মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বুধবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাবির টিএসসি থেকে বের করা মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ হয়ে টিএসসিতে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা দীর্ঘদিন জেলে থাকার ফলে খাদিজার কিডনিতে পাথরসহ নানা রকম শারীরিক উপসর্গে আক্রান্ত থাকার পরও

বারবার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার সমালোচনা করেন।

পাশাপাশি তার শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনা না করে,

এমনকি মামলার রায়ের আগেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের জন্য নির্দিষ্ট কনডেম সেলে রাখার তীব্র নিন্দা জানান।

বক্তারা অতিসত্ত্বর খাদিজার মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আহ্বান জানান।

অন‍্যদিকে, খাদিজার পরিবারে তার বড় বোন দীর্ঘদিন যাবৎ দপ্তর থেকে দপ্তরে নানা রকম তদবির করেও জামিনের কোনো আশ্বাস না পেয়ে চরম হতাশায় আছেন পরিবার।

তিনি বলেন, ছোট্ট মেয়েটাকে তারা পাগল বানিয়ে ছাড়বে। হয়তো তাকে বাচতেই দিবে না, সে এখনও অসুস্থ।

উল্লেখ্য, একজন অতিথি বক্তার বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবে একটি ওয়েবিনার হোস্ট করার অপরাধে খাদিজার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

খাদিজার জাতীয় পরিচয়পত্র ও অ্যাকাডেমিক ডকুমেন্টে বয়স ১৭ বছর কিন্তু

তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে ২০২০ সালের ১১ ও ১৯ অক্টোবর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় পুলিশ দুটি মামলা করেন।

দীর্ঘ দুই বছর পর মামলার অভিযোগপত্র তৈরি হলে ২৭ আগস্ট ২০২২ খাদিজার মিরপুরের বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে খাদিজার অভিভাবক, তার আত্মীয়-স্বজন কেউই জানতেন না খাদিজার বিরুদ্ধে দুই বছর আগেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

একাধিকবার নিম্ন আদালতে খাদিজার জামিনের আবেদন করলেও তা নামঞ্জুর হয়।

আরও পড়ুন:

এনএএন টিভি