শেকৃবির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার মারা গেলেন

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবির) হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার চিকিৎসাধীন মারা গেছেন।

ওই শিক্ষার্থী অসুস্থতাসহ ক্লাস-পরীক্ষায় অনুপস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও

শিক্ষকদের অসহযোগিতায় হতাশ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ সহপাঠী ও পরিবারের।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারিয়ার মৃত্যু হয়।

এর আগে ২৩ মার্চ সকাল সোয়া ৯টার দিকে শেখ হাসিনা হলের ১০ তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া।

শেকৃবির কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের (২০১৭ শিক্ষাবর্ষ) দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন তিনি।

যদিও মারিয়ার পরিবার ও সহপাঠীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে শেকৃবি প্রশাসন।

তাদের দাবি, মারিয়া আগে থেকেই মানসিক রোগে ভুগছিল, সেখান থেকে লাফ দিতে পারে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মারিয়ার দুজন সহপাঠী সময় সংবাদের সঙ্গে কথা বলেছে।

তারা জানান, মারিয়ার সিজিপিএ ৩.৫০ এর ওপরে ছিল।

কিন্তু অসুস্থতার কারণে ক্লাস করতে পারেননি এবং বেশ কয়েকটি সিটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

পরবর্তীতে পরীক্ষা দেয়ার জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার উপস্থিতি ৭০ শতাংশের কম থাকায় পরীক্ষা নিতে কেউ রাজি হয়নি।

তাকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে আবার ভর্তি হতে বলা হয়।

এ ব্যাপারে কৃষি অনুষদের ডিন ড. পরিমল কান্তি বিশ্বাসকে জানালে তিনিও পরীক্ষা নিতে পারবেন না বলে জানান এবং পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে ক্লাস করতে বলেন।

তার সহপাঠীরা জানান, এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মারিয়া। তবুও তিনি ক্লাস করতে থাকেন।

কিন্তু কিছুদিন পর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লাসে তার উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে যায়।

পাশাপশি কয়েকটি সিটি পরীক্ষাও দিতে পারেননি।

এরপর বিষয়টি আবারও শিক্ষকদের নজরে আনলে তারা এবারও পরীক্ষা নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

আরও পড়ুন:

এনএএন টিভি