দেশের পোল্ট্রি শিল্প করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
আর এ কারণেই একবার ভোক্তার পকেট থেকে চলে যাচ্ছে বাড়তি টাকা, আরেকবার লোকসানের মুখে পড়ছেন খামারি।
এমন পর্যবেক্ষণ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের।
এসএমএস ও ফেসবুক গ্রুপ ব্যবহার করে দেশের মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় মুরগির দাম।
এসব মাধ্যমে দেয়া মূল্যেই খামারিরা ডিম-মুরগি বিক্রির টাকা পেয়ে থাকেন।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ নামে একটি ফেসবুক পেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,
চলতি মাসের ২৫ মার্চ এক কেজি ব্রয়লার বিক্রি করে গাজীপুরের খামারিরা পেয়েছেন ১৭০ টাকা, ২৭ তারিখে যা নেমেছে ১৫৫ টাকায়।
এ ছাড়া বগুড়ায় খামার পর্যায়ে ২৫ মার্চ মুরগির ২১৫ টাকা হলেও একদিনের ব্যবধানে তা নেমে আসে ১৬০ টাকায়।
অথচ বাচ্চা ও খাদ্যের মান-দাম বিবেচনায় খামারভেদে উৎপাদন খরচই ১৬৫ টাকার বেশি।
এতে একদিকে কাটা হচ্ছে ভোক্তার পকেট আরেকদিকে লোকসান গুনছেন প্রান্তিক খামারিরা।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।
এসএমএসের মাধ্যমে খেয়ালখুশি মতো তারা মুরগির ও বাচ্চার দাম ওঠানামা করায়।
এতে দেশের প্রায় ১ লাখ খামারি এখন ধ্বংস হওয়ার পথে।
আর রাজধানীর কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, গতকাল বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা।
তবে একরাতের ব্যবধানে এখন মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হচ্ছে।
তবে বাজারের নিয়ন্ত্রণ কোন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই উল্লেখ করে চাহিদা-জোগানের হিসাবেই খামারিরা বর্তমানে লোকসান গুনছেন বলে দাবি খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর।
ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা-বিবি) সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুব হাসান বলেন,
করপোরেট প্রতিষ্ঠান কখনোই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
কারণ ডিম ও মুরগি উৎপাদনকারী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের সমগ্র মুরগির বাজারের মাত্র ২০ শতাংশ উৎপাদন করে।
বাকি ৮০ শতাংশ দেশের প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন করছে।
আরও পড়ুন:
- চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার তিন সিনেমা অপেক্ষমান
- রাজধানীর স্কুলে যাওয়ার কথা বলে একসঙ্গে ৪ বান্ধবী উধাও
- উরফি জাভেদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কারিনা কাপুর

Comments are closed.