ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় নিখোঁজের পর বস্তাবন্দি উদ্ধার হওয়া শিশু হুমায়রা (২) চিকিৎসাধীন থাকার সাতদিন পর মারা গেছে।
শুক্রবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা আজিজুল ইসলাম জানান,
‘হাসপাতালটির ২২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল শিশুটি। সবশেষ সেখানেই মারা গেছে সে। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
আশুলিয়ার জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার রফিকুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া আজিজুল ইসলাম ও জোসনা বেগম দম্পতির মেয়ে হুমায়রাকে
গত ২৪ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয়। সেদিন রাতেই তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেলে।
দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বাবা আজিজুল সবজি বিক্রেতা। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তারাইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামে।
ঢাকা মেডিকেলে শিশুটির বাবা আজিজুল ইসলাম জানান,
ওইদিন সকাল ১০টার পর থেকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিলো না শিশুটিকে।
পরে বিষয়টি পরিবারের সবাই জানাজানি হলে এলাকাতে মাইকিং করে নিখোঁজের সন্ধান চাওয়া হয়।
ওই এলাকার ‘ইডনাইট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের’ প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক জয়নাল আবেদিন তুহিন জানান,
‘২৪ জুন বেলা আড়াইটার দিকে এক পথশিশু স্কুলের পিছনের গলিতে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে ঢুকলে সে একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পায়। তখন সেটি খুলে ভিতরে ওই শিশুকে দেখতে পায়।’
‘সে আশপাশের লোকজনকে ডাকলে সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, বস্তার ভিতরে অচেতন অবস্থায় একটি মেয়ে শিশু।’
‘তার গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো। তারা ধারণা করেন, মারা গেছে শিশুটি।’
‘বস্তা থেকে বের করে বাইরে এনে তার মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দেয়া হয় নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে।’
‘কিছুক্ষণ পর তার বাবা-মা খবর পেয়ে সেখান থেকে শিশুটিকে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসে।’
শিশুটির বাবা আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান,
‘তাদের বাড়ির পাশেই শাহিনা নামে এক নারীর সাথে প্রায় সময় তাদের পরিবারের ঝগড়া হতো।’
‘এর আগে, শিশুটির পরিবারের আত্মীয় অন্য দুই শিশু শাহিনার কাছে গিয়ে পৃথক দুই দিন শরীরে ছ্যাকা লাগে। এটি নিয়ে শাহিনার সাথে তাদের ব্যাপক ঝগড়া হয়।’
‘পরিবারটির সন্দেহ, সেই ঝগড়া কেন্দ্র করেই শাহিনা শিশু হুমায়রাকে হত্যা করার জন্য গলায় গামছা পেচিয়ে বস্তায় ভরে চিপা গলিতে ফেলে রাখতে পারে।
