গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১।
গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা (৪৬) জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার মৃত অহেজ উদ্দিনের ছেলে।
গত ২৮ জুন কালিয়াকৈর উপজেলার কামরাঙ্গাচালা এলাকার মাসুদের ভাড়া বাড়ি থেকে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় হাফিজা আক্তারের (২৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রবিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান,
র্যাব-১ গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেন।
র্যাব-১ গাজীপুরের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেন জানান,
প্রায় ৫ বছর আগে নিজের প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে হাফিজা আক্তারকে বিয়ে করেন মাসুদ।
তার প্রথম সংসারে দু’টি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।
প্রথম স্ত্রী বুলবুলি আক্তার মাসুদের নিজ বাড়ি জামালপুরে থাকেন।
বিয়ের কথা গোপন করায় এ নিয়ে মাসুদের সাথে হাফিজা আক্তারের প্রায় সময় ঝগড়া হতো।
এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৭ জুন তাদের মধ্যে পুনরায় ঝগড়া হলে মাসুদ তার স্ত্রী হাফিজা আক্তারকে হত্যা করে।
পরে এ ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মাসুদসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন মিলে
হাফিজা আক্তারের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে এবং ঘরের দরজা তালা বন্ধ করে সকলে আত্মগোপনে চলে যায়।
পরদিন সকালে মাসুদ নিজেই হাফিজা আক্তারের ছোট ভাই সাব্বিরকে ফোন করে জানান তার বোন অসুস্থ,
দ্রুত তাদের ভাড়া বাসায় যেয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে।
পরে সাব্বির তার বাসায় যেয়ে দেখে হাফিজা ফ্যানের সাথে ঝুলছে।পরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পরে মেডিকেল রিপোর্টে দেখা যায় এটা শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ জনিত হত্যা।
এ ঘটনায় হাফিজার বাবা মো: হাসেম সিকদার বাদী হয়ে মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকে মাসুদ পলাতক ছিলো।
পরে শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানার কোন্ডলবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব ১।
তিনি জানান, র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা তার দ্বিতীয় স্ত্রী হাফিজা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে
পালিয়ে যায় বলে স্বীকার করে এবং এই হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়।

Comments are closed.