গাইবান্ধায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৫ মার্চ রোববার গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঢাকার ধামরাইয়ের মুরারচর গ্রামের মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), গাইবান্ধা সদর থানার ডেভিট কোম্পানিপাড়ার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফাহিম মিয়া (২২), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আয়ভাঙ্গি গ্রামের মুনফুর আলীর মেয়ে মেহনাজ আকতার সাথী (২৮), ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বামনকুড়ি গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে জুয়েল আকন্দ (২৬) ও গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের তরফমনু গ্রামের ময়নুল শেখের ছেলে রুবেল শেখ (২৫)।
পুলিশ সুপার জানান, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আপেল মাহমুদের সঙ্গে আসামী গোাবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের তরফমনু গ্রামের ময়নুল শেখের ছেলে রুবেল শেখ ও ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বামনকুড়ি গ্রামের জহুরুল আকন্দের ছেলে জুয়েল আকন্দের সামাজিক যোগাযোগের (ফেসবুক) মাধ্যমে ১৫ দিন আগে পরিচয় হয়।
পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় রুবেল ও জুয়েল পরিকল্পিতভাবে গত ৩ মার্চ সন্ধ্যায় মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে আপেল মাহমুদকে গোবিন্দগঞ্জে ডেকে নিয়ে আসে।
এরপর তিনজনে বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ থানামোড়স্থ নুরজাহান আবাসিক হোটেলে একটি রুমে আপেল মাহমুদকে আটকে রাখে তারা।
সেখানে আপেল মাহমুদকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তার লগ্ন ছবি ও অশ্লীল ভিডিও তৈরীর হুমকি প্রদর্শন করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে।
টাকা দিকে দেরি হওয়ায় আপেল মাহমুদকে মারপিট করে। তার কাছে থাকা নগদ ১৮ হাজার টাকা ও স্মার্ট ফোন কেড়ে নেয় তারা।
বিষয়টি মাহমুদের পরিবার গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের শরনাপন্ন হলে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) উদয় কুমার সাহার নেতৃত্বে ওসি ইজার উদ্দিন ও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম এসআই প্রলয় কুমার বর্মা, এসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই রেজাউল করিম সঙ্গীয়ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে আপেল মাহমুদকে উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেপ্তার করে।
অপর দিকে, ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ কুঠির গ্রামের এনছার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলামের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আয়ভাঙ্গি গ্রামের মুনফুর আলীর মেয়ে মেহনাজ আকতার সাথী ১০ দিন আগে ইমুতে পরিচয় হয়।
একপর্যায়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে মেহনাজ আকতার সাথী জহুরুল ইসলামকে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে ৩ মার্চ সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জে ডেকে আনে।
দুজনে বিভিন্নস্থানে ঘুরাঘুরি শেষে আসামী মেহনাজ আকতার সাথী জহুরুল ইসলামকে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।
সেখানে মেহনাজ আকতার সাথী তার স্বামী আরিফুল ইসলাম আরিফ ও তার সহযোগি ফাহিম জহুরুল ইসলামকে জিম্মি করে ঘরে আটকে রাখে।
একপর্যায়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে তাকে কিলঘুসি মারতে থাকে। সেইসাথে জহুরুল ইসলামের কাছে থাকা ১ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি ফোন কেড়ে নেয়।
বিষয়টি জহুরুল ইসলাম পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা পুলিশের শরনাপন্ন হন।
এরপর একইভাবে সহকারী পুলিশ সুপার উদয় কুমার সাহা ও গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি ইজার উদ্দিন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম সঙ্গীয়ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে জঙ্গলমারা গ্রামে ডায়াবেটিস হাসপাতালে পিছন থেকে আসামীর ভাড়া বাসা থেকে জহুরুল ইসলামকে উদ্ধার সহ আসামীদের গ্রেপ্তার করে
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
