গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ হওয়ার পর ওই বাড়ির বাড়িওয়ালা তাদের এক ঘণ্টা আটকে রাখে।
এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেন তাদের।
এরপর দগ্ধদেরকে রোববার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ আগস্ট) সকালে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের (ঢামেক) পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান,
‘তাদের ৩ জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।’
দগ্ধরা হলেন- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মিনারুল ইসলাম (৩৫), তার বাবা পরমাণু মন্ডল (৬৫) ও মা খাদিজা বেগম (৫২)।
মিনারুলের সহকর্মী মো. মাহবুবুর রহমান জানান,
‘আমি ঢাকাতেই থাকি। রাতে খবর পাই গাজীপুরের বোর্ডবাজার কলমেশ্বর এলাকায় মিনারুলের ভাড়া বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে।’
‘পরবর্তীতে রাতে তাদেরকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়েছে; সেখানে গিয়ে তাদেরকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই।’
দগ্ধ এবং তার স্বজনদের বরাত দিয়ে মো. মাহবুবুর রহমান আরও জানান,
‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে যখন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এরপর ওই বাড়িওয়ালা ঝলসে যাওয়া ৩জনকেই বাসার ভেতর আটকে রাখে।’
‘বাসার ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করার জন্য তিনি তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়।’
‘পরবর্তীতে থানা পুলিশ এবং মিনারুলের সহকর্মী সেখানে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে ওই বাসা থেকে তাদের বের করে আনেন এবং স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।’
তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন,
‘বিস্ফোরণে মিনারুলের স্ত্রী ও সন্তানের কিছু হয়নি।’
‘রাতে পুলিশের হস্তক্ষেপে দগ্ধদেরকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে আনা হলেও সকালে মিনারুলের স্ত্রী এবং বাচ্চাকে বাসায় ভেতরে ওই বাড়িওয়ালা আবার আটকে রাখে।’
‘তাকে হাসপাতালে রোগীদের কাছেও আসতে দিচ্ছিলো না। পরে মিনারুলের স্ত্রী ফোনে বিষয়টি জানালে আবারও থানায় ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়।’

Comments are closed.