চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-সড়কে ব্যয় বাড়লো

দ্বিতীয় দফায় বাড়লো চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ্-আমানত
বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয়। সেইসঙ্গে বেড়েছে কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট
সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজের ব্যয়ও।
এ দুই প্রকল্পের মোট ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৭ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন
দিয়েছে সরকার। যার মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৬৪৯ কোটি ২ লাখ ৪৩ হাজার
৯১ টাকা। আর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৩০ কোটি ৫ লাখ ১
হাজার ১১৬ টাকা।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ভার্চ্যুয়ালি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়
সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত দুইটি পৃথক প্রস্তাবে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত
জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।
তিনি জানান, আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৭তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গৃহায়ন ও
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ্-আমানত
বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের ডাব্লউডি-ওয়ান প্যাকেজের পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন
বাবদ অতিরিক্ত ৬৪৯ কোটি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯১ টাকা ব্যয় বাড়ানোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
চুক্তির মূল্য ছিল ৩ হাজার ৭২০ কোটি ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭২৮ টাকা। ব্যয় বেড়ে মোট টাকার পরিমাণ
দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩শ ৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮শ ১৯ টাকা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু
থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্পের ডাব্লউডি-ওয়ান প্যাকেজের পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন বাবদ
অতিরিক্ত ২৩০ কোটি ৫ লাখ ১ হাজার ১১৬ টাকা ব্যয় বাড়ানোর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। মূল চুক্তির
মূল্য ছিল ৭৮৯ কোটি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৮ টাকা। ব্যয় বেড়ে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার
১৯ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৪ টাকা।
অতিরিক্ত সচিব জানান, সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ‘চট্টগ্রাম বন্দরের
বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় ইক্যুইপমেন্ট  সংগ্রহ’ প্রকল্পের প্যাকেজ জি-৫ লট-১ এর আওতায়
৬টি ০৪ হাই স্ট্যাডেল ক্যারিয়ার চীনের সাংহাই জেনহুয়া হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ৪৯
কোটি ৮৬ লাখ ১৩ হাজার ২৩ টাকায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা ‘সংশোধন’ করে আরও ১০৪৮ কোটি টাকা (আগের ব্যয়ের চেয়ে
৩২ শতাংশ) ব্যয় ও দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করতে পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল
সিডিএ। চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বরে সংস্থাটির সেই প্রস্তাব মেনেই প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপার্সন শেখ
হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তা অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগরের আলোচিত এলিভেটেড

এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ পাঁচ বছর শেষে এবার নকশা পাল্টিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ফলে এই প্রকল্পটির
শেষ করতে বাড়াতে হয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ ও সময়।
২০১৭ সালে একনেকে অনুমোদন হওয়া ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের তিন বছরের প্রকল্পটি মেয়াদ বাড়িয়ে
২০২৪ সালের জুনে শেষ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে একনেক। এর আগে ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ
দুই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছিল। এ দফায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে
হল ৪ হাজার ৩শ ৬৯ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ৮শ ১৯ টাকা। আর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত
সড়ক নির্মাণ ব্যয় বেড়ে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৪ টাকা।