একমাত্র মেয়ে আর পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগামী বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
তাই নতুন জামাকাপড় কেনা থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন রশিদ।
তবে দুর্ভাগ্যের পরিহাস, এর তিন দিন আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল রশিদের।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের নয়ানিকান্দা এলাকায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আবদুর রশিদ নিহত হন।
এ সময় সাইফুল ইসলাম নামের আরও একজন নিহত হয়েছেন। আবদুর রশিদ উপজেলার তন্তর গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল রশিদের উড়োজাহাজের টিকেট কাটা ছিল।
এর মধ্যে, গতকাল রশিদ তাঁর বন্ধু শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান।
সেখান থেকে ফেরার পথে নকলা উপজেলা থেকে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলে ওঠেন রশিদ ও তাঁর বন্ধু শহিদুল।
পথে শহরের নয়ানিকান্দা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান।
মোটরসাইকেলটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে চালকসহ দুই বন্ধু সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যান।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে
সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রশিদ ও মোটরসাইকেলের চালক সাইফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া গুরুতর আহত শহিদুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রশিদের স্ত্রী হাফেজা বেগম বলেন,
‘বিভিন্ন সমিতি থাইকা সাড়ে তিন লাখ টাকা ধার করছে। দুবাইয়ে যাওয়ার লাইগা পাসপোর্ট–ভিসা করছে। বিমানের টিকিটও করা হইয়া গেছে।
নিজের লাইগা আট হাজার টাকা দিয়া কাপড়–জুতা কিনছে। বাড়ি থাইকা ভালা মানুষ বাইর অইছে। কিন্ত অহন লাশ অইয়া গেছে।
বিদেশে যাওয়ার সবকিছু শেষ অইয়া গেছে…’ এসব বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাফেজা বেগম।
রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন,
আবদুর রশিদের নিজের বলে কিছুই নেই। বিভিন্ন স্থান থেকে ধারদেনা করে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল।
রশিদের স্ত্রী–সন্তান এখন অসহায় হয়ে পড়ল। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

Comments are closed.