নিউমার্কেট অগ্নিকান্ডে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা পড়েছে বিপাকে

নিউমার্কেট অগ্নিকান্ডের বিষয়ে না জেনেই ঢাকার অদূরে দোহার থেকে পরিবারের দুই সদস্যকে নিয়ে শেখ শহীদুল ইসলাম এসেছেন রাজধানীর নিউমার্কেট-গাউছিয়া এলাকায়। লক্ষ্য ঈদের কেনাকাটা করা।

নিউ মার্কেটের কাছাকাছি আসার সময় খেয়াল করেন, পুলিশ অনেক মানুষকে আটকে দিচ্ছে।

এরপর হেঁটে নূরজাহান মার্কেটের সামনে আসতে পেরেছেন বটে, কিন্তু দোকানপাট সব বন্ধ। কেনাকাটা করতে পারেননি।

এসব জানিয়ে শহীদুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,

“এখানে কম দামে কেনাকাটা করা যায়। সে জন্য প্রতিবছর ঈদের কেনাকাটা এখান থেকেই করি। সকালে জানতে পারিনি এখানে এই অবস্থা। এখন এসে তো বিপদে পড়লাম।

এমনিতেই গরমের দিন, সময়–সুযোগ করে বারবার বের হওয়া কষ্ট। এখন সবাই মিলে ভাবছি, কোথায় গেলে কেনাকাটা শেষ করতে পারব।”

শুধু শহীদুল ইসলামই নন, আজ শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে অনেক ক্রেতারই এই অভিজ্ঞতা হয়েছে।

নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের সব মার্কেট বন্ধ থাকায় ক্রেতারা কেনাকাটা করতে পারেননি।

রাস্তা বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলও সীমিত। তাতে পরিবার নিয়ে আসা লোকজন হেঁটে এলাকা ত্যাগ করেছেন।

কেউ কেউ অন্য কোনো শপিং মলে গেছেন, আবার শপিং না করেই বাড়িতে ফিরে গেছেন অনেকে।

ডেমরা এলাকা থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটা করতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় গৃহিণী নাহার আক্তার প্রথম আলোকে বলেন,

‘আসার আগে জানতে পারলে নিশ্চয়ই আসতাম না। মেয়েদের নিয়ে এসে পড়লাম বিপদে। এখন যানবাহন না পাওয়ায় ফিরতেও পারছি না। আসা–যাওয়ার ভাড়া তো গেল। পাশাপাশি একটা দিনও নষ্ট হলো।’

তবে আগুন লাগার ঘটনা জানার পরও অনেকে এসেছেন।

কম দামে কেনাকাটার জন্য নিউ মার্কেট-গাউছিয়ার চেয়ে ভালো জায়গা ঢাকায় কম আছে বলে মন্তব্য করেন এই ব্যক্তি।

রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের বেশ কয়েকটি মার্কেট বন্ধ আছে। এ কারণে এসব মার্কেটের কয়েক হাজার দোকানপাটে বেচাকেনা হচ্ছে না।

এসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে এই আগুনে তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতি হলো।