রাজধানীর দক্ষিণখানে বাড়িওয়ালার দুর্ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে বিউটি বেগম (২৪) নামের এক ভাড়াটিয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কোটবাড়ির দক্ষিণ গোয়ালটেকের বালুর মাঠ বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক হেলেনা পলাতক রয়েছেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়,
‘খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করতে যায় পুলিশ।’
‘এ সময় ওই বস্তির ভাড়াটিয়া ও আশেপাশের লোকজন দাবি করেন বাড়িওয়ালা হেলেনার দুর্ব্যবহারের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ওই নারী।’
‘তারা বিউটির আত্মহত্যার জন্য হেলেনার শাস্তি দাবি করেন।’
নিহত হেলেনা নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার শিবগঞ্জ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তিনি বালুর মাঠ বস্তিতে মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
নিহতের স্বামী আনোয়ার জানান,
‘বালুর মাঠের হেলেনার বস্তিতে দীর্ঘ নয় বছর ধরে থাকি। করোনাকালে বাড়ি ভাড়ার ৪০ হাজার টাকা বাকি পরে।’
‘টাকা পরিশোধ করার জন্য আমি ব্যবসা বাদ দিয়ে চাকরি শুরু করি। আমার বউও কাজ শুরু করে। আমরা ভাড়ার টাকা পরিশোধ করা শুরু করি।’
তিনি আরও বলেন,
‘টাকার জন্য কয়েক মাসে ৮/১০ বার রুমে তালা দিয়ে বউ-সন্তানসহ বের করে দেন বাসার মালিক হেলেনা।’
‘সর্বশেষ গত মাসেও রাত ১টার দিকে আমার বউ-সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেন তিনি। আমার বউয়ের সাথে বাজে ব্যবহার করতো।’
‘যার কারণে আমি গত ছয় মাস ধরে ওই বাসায় থাকি না। গত মাসে আমার বউ বিউটি ও সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়, পরে ওরা বিউটির মায়ের রুমে থাকতো।’
তিনি বলেন,
‘কাজের জন্য উত্তরার আজমপুরে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে জানতে পারি, রুমের ফ্যান ছাড়া ছিল, তার জন্য বাড়িওয়ালা বিউটির সাথে বাজে ব্যবহার করেছেন। তার ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে বিউটি আত্মহত্যা করেছে।’
এ বিষয়ে বাড়িওয়ালা হেলেনার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন চন্দ্র কর্মকার বলেন,
‘খবর পেয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাড়িওয়ালার খারাপ ব্যবহার সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’
দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান,
‘ওই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওর্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’
‘এ ঘটনায় তার আত্মীয়-স্বজন থানায় এসেছেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
