অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে রাজধানীর মিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে ডুবে যাওয়া সেই শিশুটি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে প্রবল বৃষ্টিতে মিরপুরে জমা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়।
এ সময় পানিতে ডুবে যায় সাত মাসের শিশু হোসাইনও। পানি থেকে শিশুটির পা ধরে টেনে তোলার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
তখন সবাই শিশুটিকে মৃত বলেই ধরে নিয়েছিল। কিন্তু কথায় আছে রাখে আল্লাহ মারে কে!
পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা-মা-বোন পরিবারের সবাই প্রাণ হারালেও যেন অলৌকিকভাবেই পানিতে ডুবেও বেঁচে গেল শিশু হোসাইন।
জানা যায়,
শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধারের পর আশপাশের মহিলারা তাকে বাসায় নিয়ে ঘরোয়াভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পরে শিশু হোসাইনের নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করার পর তৃতীয় লিঙ্গের বৃষ্টি ও আমেনা হাসপাতালে নিয়ে যান।
তারা জানান, ‘শিশুটি পানিতে ভাসছিল, দেখতে পেয়ে এক যুবক পা ধরে উঠান।
পরে আশপাশের মহিলারা তাকে বাসায় নিয়ে রসুনের তেল মাখায়,
এরপর যখন তার নাক দিয়ে রক্ত বের হয় তখন তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’
তৃতীয় লিঙ্গের বৃষ্টি ও আমেনা আরও জানান, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সকালে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
এখন শিশু হোসাইন মোটামুটি সুস্থ আছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া তথ্য নিশ্চিত করে জানান,
শিশু হোসাইন সুস্থ আছে। শিশুটি আমেনা নামের এক প্রতিবেশির কাছে রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তখন বজ্রপাত হলে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে।
এতে বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে
সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়,
নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। তারা হলেন, শিশু হোসাই বাবা মো. মিজান, মা মুক্তা বেগম ও বোন লিমা।
এই পরিবারকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোহাম্মদ অনিক নামে আরেক তরুণের মৃত্যু হয়। এরা সবাই মিরপুর-২ ঝিলপাড় বস্তির বাসিন্দা।
তবে অনেকটা অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় নিহত মিজান ও মুক্তা বেগমের সাত মাস বয়সী শিশু হোসাইন। তবে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় এই দম্পতির অপর মেয়েটি।

Comments are closed.