বিয়ে হয়নি সন্দেহে স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

কাবিননামা দেখানোর পরেও মেলেনি রেহাই। বিয়ে হয়নি সন্দেহের জেরে স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

রাজধানীর গোলাপবাগে সোহান হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন শেখ মো. জামাল, শামীম, আলভী, সোহেল ও সাজিদ।

পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে শামীম আলভীদের বিরুদ্ধে কোনো ছেলেমেয়েকে একসঙ্গে দেখলেই টার্গেট করে মারধরের অভিযোগ আছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোলাপবাগে গত মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) ইফতারের পর স্বামীকে নিয়ে বাবা-মার বাসায় যান দোলা।

সে সময় দোলার বাবা-মা বাসায় ছিলেন না। এর মধ্যেই ঘটেছে এ ঘটনা। বাড়ির মালিক জামাল হোসেন তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহানকে বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিচতলার একটি রুমে নিয়ে যান।

কয়েকজন মিলে তাকে পেটাতে থাকেন। দোলা বাড়ির মালিককে জানান, সোহান তার স্বামী। দেখান বিয়ের কাবিননামাও। এতেও ক্ষান্ত হননি বাড়ির মালিক।

একপর্যায়ে সোহান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দোলা বলেন, ‘আমি দুইবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। কাবিননামা ও সোহানের ভোটার আইডি কার্ড দেখানোর পরও বাড়িওয়ালা ও তার জামাই বিশ্বাস করতে চায়নি।

পরে আমার ভাইকে ফোন দিয়ে কথা বলিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা আমার ভাইয়ের কথাও শোনেননি।’

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মধুসূদন দাস  বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা বারবার প্রমাণ দেয়ার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু তারপরও অভিযুক্তরা ওই নারীকে ঘরে রেখে তার স্বামীকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করেছেন ছেলেটির বাবা।’

এ ঘটনায় প্রথমে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছি। পরবর্তী সময়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করি। গ্রেফতারকৃত শামীম ও আলভী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন’ উল্লেখ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে সোহানকে বিয়ে করেন দোলা। প্রায়ই দোলাদের গোলাপবাগের বাসায় যাতায়াত ছিল সোহানের।

বাড়িওয়ালাসহ এলাকার অনেকের ধারণা ছিল বিয়ে না করেই একসঙ্গে থাকতেন তারা। অথচ তাদের বিয়ে হয়েছিল।

উচ্চশিক্ষার জন্য শিগগিরই কানাডা যাওয়ার কথা ছিল সোহানের।

 

এনএএন টিভি