ঢাকায় বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার অন্যতম প্রবেশমুখ আবদুল্লাহপুর মোড়ে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই তল্লাশি কার্যক্রম।
এতে ভোগান্তির পাশাপাশি হয়রানির অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।
রফিকুল ইসলাম নামের এক যাত্রীর দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। তিনি কোনো সভা-সমাবেশেও যাচ্ছেন না।
তবু বাসে তল্লাশির সময় তাঁর ব্যাগ, মুঠোফোন তল্লাশি করা হয়েছে।
এতে তিনি বিরক্ত। তাঁর ভাষ্য, ‘তল্লাশির নামে এটা যাত্রী হয়রানি ছাড়া আর কিছু না।
আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করা হচ্ছে।’
ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-আশুলিয়া সড়ক এসে যুক্ত হয়েছে আবদুল্লাহপুর মোড়ে।
এর মধ্যে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে ঢাকায় ঢোকে মানুষ।
ঢাকা-আশুলিয়া সড়ক হয়ে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ রাজশাহী বিভাগের একাধিক জেলার লোকজন রাজধানীতে ঢোকে।
এখানে দুটি সড়ক ঘিরেই বসেছে তল্লাশি।
সকাল ১০টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, আবদুল্লাহপুর মোড়ে বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসড়কের নিচে বসেছে তল্লাশিচৌকি।
পাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন ১০ থেকে ১৫ জন পুলিশ সদস্য।
এর মধ্যে দূরপাল্লার কোনো বাস আসতে দেখলেই গতিরোধ করেছেন তাঁরা। বাসে উঠে তাঁরা নাম, পরিচয়, ঠিকানা জিজ্ঞাসা করছেন।
কাউকে কাউকে বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি করছেন। চালকের আসন, বাসের আসনসহ তল্লাশি করছেন পুরো বাস।
তল্লাশির কারণে প্রতিটি বাসকে গড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
এর মধ্যে কারও কথাবার্তায় সন্দেহ প্রকাশ পেলে আটকে রাখতে দেখা যায় তাঁদের।
গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে একটি বাসে বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছিলেন মিলন, ফেরদৌস ও জাহিদুল নামের তিনজন।
পুলিশ বাসে উঠে তাঁদের মুঠোফোন তল্লাশি করে। এরপর তাঁদের বাস থেকে নামিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
যাওয়ার পথে মিলন বলেন, ‘আমরা বিএনপির সমাবেশে যাচ্ছিলাম।
পুলিশ আমাদের সঙ্গে কিছুই পায়নি। তবু আমাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে থানায়।’
এ ছাড়া যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা,
এমনকি হেঁটে আসা পথচারীদের তল্লাশি করতে দেখা যায়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তল্লাশিচৌকিতে থাকা উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির বলেন,
‘আমরা রাত থেকেই তল্লাশি চালাচ্ছি। রাতে কিছু মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।’
তবে সমাবেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Comments are closed.