রাজধানীতে আগুনের ঝুঁকিতে ১৩০০ মার্কেট

রাজধানীতে আগুনের ঝুঁকিতে আছে এমন মার্কেট, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনের তালিকা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

এই তালিকায় নামিদামি শপিংমলসহ স্থান পেয়েছে ১ হাজার ৩০৫টি মার্কেট ও ভবন। এর মধ্যে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৪৫০টি।

এসব মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও ভবন মালিকদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আইনি দুর্বলতার কারণে সংস্থাটি কারও বিরুদ্ধে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা সরকারি এই সংস্থার তালিকাকে গৎবাঁধা আখ্যা দিয়েছেন অনেক মার্কেট পরিচালনা কমিটির নেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বড় আগুনের ঘটনা ঘটলেই এ নিয়ে হইচই শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানে থেমে যায় সবকিছু। অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না কেউ।

মঙ্গলবার বঙ্গবাজারে স্মরণকালের ভয়াবহ আগুনে আটটি মার্কেট পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’।

তাই কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে সব মহল। বৃহস্পতিবার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি প্রতিনিধি দল গাউছিয়া মার্কেট পরিদর্শন করেছে।

পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ সব মার্কেট পরিদর্শনের পর সবাইকে সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন,

ফায়ার সার্ভিস অন্তত ৪৫০টি মার্কেট ও ভবনের তালিকা নিয়ে মাঠে কাজ করবে।

এই তালিকায় গাউছিয়া মার্কেট, নূর ম্যানশন, রাজধানী সুপার মার্কেট, কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেট, লিলি প্লাজা, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের নামও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ মার্কেট, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনের তালিকা তৈরি করলেও

দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ফায়ার সার্ভিসের তেমন কোনো ক্ষমতা নেই।

সংস্থাটিকে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বেশ কিছু ক্ষমতা দিয়ে ২০১৪ সালে ‘অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন-২০০৩’-এর আওতায় একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল।

কিন্তু পোশাক প্রস্তুতকারীদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে ওই গেজেট স্থগিত করা হয়।

এরপর অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ওই আইনের বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও তা অজানা কারণে আটকে আছে।

আরও পড়ুন: 

এনএএনটিভি