নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় বিএনপি নেতা ও তার ভাতিজাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার দুপরে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ডহরগাঁও বালুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ-সম্পাদক বকুল মিয়া বাদী হয়ে রুপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হামলাকারী অভিযুক্তরা হলেন, গোলাকান্দেল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ডহরগাঁও এলাকার জামান মিয়ার ছেলে পারভেজ (৩২), আতাবুরের ছেলে আক্কাস আলী (২৬) ও সিয়াম (২০), মৃত হারুনের ছেলে রবিন (৩০)।
অভিযোগকারী বাদী গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ-সম্পাদক বকুল মিয়া জানান, উক্ত হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকদিন যাবত এলাকায় মাদক ব্যবসা ও জুয়া পরিচালনা করে আসছে। এতে করে এলাকায় মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে ছোট থেকে বড় সবাই। পরে এলাকার গন্যমান্য লোকজন বিবাদীদের অসামাজিক কাজ বন্ধ করার লক্ষ্যে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন ও এমপি মহোদ্বয়কে জানায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদীগন ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু দিন যাবত বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে আসছে।
অভিযোগকারী বাদী আরো বলেন, পরে হুমকির বিষয়টি আমার ভাতিজা মো: বিপুল মিয়া (১৮), ও আমার প্রতিবেশী ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রার্থী মনির হোসেন ভূইয়া (৫৫)কে জানালে তারাও মাদক বিক্রি বন্ধের বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। এবং তাদেরকেও কিছুদিন যাবত বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন
হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ী বিবাদীগন। পরে গতকাল ২৪ মে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কোরবানীর গরু কেনার জন্য নিজ বাড়ী থেকে ভুলতা যাওয়ার সময় দুপুর ১২ট ২০মিনিটের দিকে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের ডহরগাঁও বালুর মাঠ এলাকায় পৌঁছাইলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মাদক ব্যবসায়ী বিবাদীগনসহ তাদের সাথে থাকা সহযোগী আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন হাতে দা, লোহার রড, লাঠিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে নিয়ে আমাদের পথরোধ করে। আমি এসবের কারন জানতে চাইলে ১নং বিবাদী পারভেজের হুকুমে অন্যান্য বিবাদীগন আমাদেরকে এলোপাথারি মারপিট করে। পরে একপর্যায়ে ১নং বিবাদী পারভেজ তাহার ২ হাতে আমার ভাতিজা বিপুল এর গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার ভাতিজা ধস্তা ধস্তি করে ছুটে নিজের প্রানে রক্ষা পায়। ২নং বিবাদী আক্কাস আলী আমার প্রতিবেশী ভাই মনির হোসেন ভূইয়া এর পরিহিত প্যান্টের ডান পকেটে থাকা গরু ক্রয়ের নগদ ১,৫০,০০০/-টাকা নিয়া যায়।
পরে আমরা ডাক-চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে বিবাদীগন বলে এই বিষয় নিয়া বেশি বাড়াবাড়ি অথবা কোন মামলা মোকদ্দমা করলে সুযোগ পাইলে আমাকে ও আমার পরিবারের যেকাউকে জীবনে শেষ করে দিবে। ফেলিবে বলিয়া প্রান নাশের হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। পরে স্থানীয়রা আমাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রুপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সালাউদ্দিন জানান, মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
