পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প নিয়ে এক ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।তথ্য অফিস, লামার আয়োজনে লামা উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সরকারি কর্মকর্তারা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং জনগণের মধ্যে কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভুজ বড়ুয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো.তানবির হাসান এবং উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাশেল।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মঈন উদ্দিন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সতর্কতা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি তথ্যগুলো সুন্দর ও সুনিপুণভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তথ্য সংগ্রহের কাজ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, “এই প্রকল্পের কাজে বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করতে গিয়ে যেকোনো আইনি সমস্যা সমাধানে লামা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।” তিনি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে পুলিশি সহযোগিতা নেওয়ার আশ্বাস দেন।লামা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক প্রভুজ বড়ুয়া জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।লামা উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল হক রাশেল বলেন,

“সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের এই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা এবং প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।” তিনি কর্মসূচি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা এবং তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।সমাবেশে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। এতে নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু, যুবসমাজের জন্য আইসিটি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুকরণ এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতা বৃদ্ধির প্রতি বিশেষ আলোকপাত করা হয়। এছাড়া মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং দলমত নির্বিশেষে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারাও সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম, জনসেবামূলক উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সেবাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন।
