দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নৌপথগুলোও।
পদ্মা সেতু চালুর পর নৌপথে যাত্রী কমে যাওয়া এবং দুই দফায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে লোকসানের মুখে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিকেরা।
এতে একসময় যাত্রীদের কোলাহলে মুখর নদীবন্দরগুলোয় এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে,
ঢাকা থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১৪টি রুটের মধ্যে ৩টি চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এগুলো হলো বরগুনা, আমতলী, ভান্ডারিয়া।
এ ছাড়া ঝালকাঠি রুটটিতে অনিয়মিত একটি লঞ্চ চলাচল করছে। বরিশাল ও পটুয়াখালী রুটে লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে যথাক্রমে দুটি ও একটি করা হয়েছে।
কেবল ভোলা জেলার আটটি রুটে এখনো নিয়মিত আগের মতোই লঞ্চ চলাচল করলেও যাত্রীর সংখ্যা কমেছে।
এ অঞ্চলের ১৮টি ঘাটের ৮টি এখনো ইজারা দেওয়ার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বেশি যাত্রী পরিবহন করা রুট হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা। এই রুটে দেশের সর্ববৃহৎ ও বিলাসবহুল লঞ্চগুলো যাত্রী পরিবহন করত।
আগে প্রতিদিন যেখানে সাত থেকে আটটি লঞ্চ যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত ছিল,
সেখানে এখন মাত্র দুটি লঞ্চ চলাচল করছে। তা–ও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।
সর্বশেষ ২২ আগস্ট বরগুনা-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এখান থেকে আগে প্রতিদিন তিনটি লঞ্চ চলাচল করলেও বছরখানেক আগে তা কমিয়ে একটি করা হয়েছিল।
সেটিও এবার বন্ধ হয়ে গেলবিআইডব্লিটিএর বরিশাল অঞ্চলের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন,
এ অঞ্চলের নৌ চলাচল এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। অনেক রুটে লঞ্চ বন্ধ হয়ে গেছে।
বরিশালে দুটি লঞ্চ চলছে, তাতে যাত্রী কম।
এগুলো কত দিন টিকে থাকবে,
তা নিয়ে সংশয় আছে। বিশাল এই নৌপথ বন্ধ হলে নৌবন্দরের অবকাঠামো হুমকিতে পড়বে, নদীপথগুলোও অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
তবে বিআইডব্লিউটিএ আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে নৌপথগুলোয় নৌ চলাচল অব্যাহত রাখতে।
আরও পড়ুন :
