হাসপাতালে ভূয়া পুলিশের হেনস্তা শিকার নারী রোগী ও রোগীর শাশুড়ি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গভীর রাতে প্রসূতি ওয়ার্ডে ভূয়া পুলিশ প্রবেশ করে এক নারী রোগী ও তার শাশুড়ীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী জানান, শুক্রবার রাতে হটাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের পোশাক পরা ও মুখে মাস্ক দেওয়া একজন ব্যক্তি নিজেকে ফারুক পরিচয় দিয়ে ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন। এবং প্রসূতি ওই রোগীর স্বামীর ব্যাপারে নানা প্রশ্ন করেন। তিনি কথা বলতে না চাইলে তার শাশুড়িকে পুলিশ পরিচয় দানকারী ব্যক্তি তার স্বামীর কর্মস্থল মাদ্রাসায় চাকরি করতে নিষেধ করেন। এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।

 

ভুক্তভোগী নারী আরও জানান, পুলিশের যে পোশাক ওই ব্যক্তি পরে ছিলেন সেটা অনেকটা ঢিলাঢালা ছিলো এবং পোশাকে নাম লিখা ছিলো ‘মোস্তফা’। পুলিশ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি যাবার সময় মোবাইল নাম্বার দিয়ে শনিবার থানায় দেখা করার কথা বলেন। শনিবার তার স্বামী ও শশুর কুমারখালী থানায় গেলে ফারুক বা মোস্তফা নামের কেউ থানায় চাকরি করেনা বলে জানানো হয় এবং উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে জানা যায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী।

এ ব্যাপারে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জানান, রাতে পুলিশ পরিচয়ে একজন ব্যক্তি সেবিকা রুমে প্রবেশ করে একজন নারী রোগী ও তার স্বামীর নাম উল্লেখ করে কোন ওয়ার্ডে আছে জানতে চাইলে গভীর রাতে পুলিশ দেখে দায়িত্বরত সেবিকা ভয় পেয়ে যান এবং প্রসূতি ওয়ার্ড দেখিয়ে দেন। পরবর্তীতে সেবিকা তাকে বিষয়টি জানালে তিনি থানায় ফোন দিলে থানা থেকে জানানো হয় ওই নামের কোন পুলিশ কুমারখালী থানায় নেই। এ ব্যাপারে তিনি থানায় মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, থানায় ফারুক বা মোস্তফা নামে কোনো অফিসার নাই। এবিষয়টি আমি শুনেছি এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পায়নি অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

নাজমুল হাসান / এনএএন টিভি

Share this news as a Photo Card