সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরে ফের পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। কয়েকশ’ কোটি টাকার পাথর লুটের কারণে শ্রীহীন হয়ে পড়া এই পর্যটনকেন্দ্রটি কিছুটা হলেও আগের রূপে ফিরতে শুরু করেছে। কঠোর অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত পাথর উদ্ধারের পর প্রতিস্থাপনের খবরে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় পর্যটকরা। আসছেন দেশের অন্যান্য এলাকার প্রকৃতিপ্রেমীরাও।
সরেজমিনে সাদাপাথর ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের নিরবতার অবসান ঘটিয়েছেন কয়েকশ’ পর্যটক। পাথর লুটের পর ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকলেও সেদিন ছিল ব্যতিক্রম। পর্যটকরা আসছেন এবং নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কেউ কেউ পাথর বিছানো ধলাইয়ের স্বচ্ছ জলে সাঁতরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিলেন। আবার কেউবা ব্যস্ত ছবি তোলায়।
তবে লুটপাটের আগে যারা ঘুরে গিয়েছিলেন, ফের সাদাপাথরে বেড়াতে এসে তাদের মাঝে ছিল আফসোস। অনেকের মতে, সাদাপাথরের আগের সৌন্দর্য্য আর নেই। আগে পর্যটনকেন্দ্রটিতে অনেক বেশি পাথর ছিল। এখন কমেছে। ফলে সৌন্দর্য্যও কমেছে। আর যারা প্রথমবারের মতো ঘুরতে এসেছেন তাদের চোখে মুখে ছিল বেশি উচ্ছ্বাস। যে পরিমাণ সাদাপাথর আছে, তাতেই মনজুড়ানো উপভোগ তাদের।
পাথর লুটের পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। উদ্ধার করা হয় অন্তত সাড়ে ৫ লাখ ঘনফুট পাথর। সেগুলো আবার প্রশাসনের উদ্যোগে ধলাইয়ের বুকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে। এবার সিলেটের জেলা প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, সাদাপাথর এলাকাটিকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এমন ঘোষণায় খুশি পর্যটকরা।
গতকাল সকালে সাদাপাথর পরিদর্শন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান। পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সাদাপাথরের মতো একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে ভয়াবহ লুটপাট দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নœকরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লুটের ঘটনায় যে দলেরই প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা প্রশাসনের যত বড় কর্মকর্তাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিজিবি ক্যাম্পের পাশেই সাদাপাথরে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় বিজিবি কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। এখানে বড় লুটপাট হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান, অপরাধীর পরিচয় দেখার সময় এখন নয়।
মো. মোখলেস উর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা দুইটা সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক দিয়েছি। ডিসি সাহেবকে উইথড্র করে নিয়েছি, নতুন ডিসি সাহেব দিয়েছি। অ্যান্ড হি ইজ দ্য বেস্ট। ইউএনওকে উইথড্র করেছি, এসি ল্যান্ডকে ডিসফাংশনাল করেছি। এখানে ফাংশনাল, সিলেকটেড যে লোকগুলো কাজ করবে, জনগণের সঙ্গে আপনাদের সঙ্গে মিলেমিশে।’
সাদাপাথর পরিদর্শনকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব পর্যটনকেন্দ্রটিকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশনা দেন। তাঁর পরিদর্শকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিনহা, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাদাপাথরে লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে প্রতিস্থাপনের কার্যক্রমটি পরিবেশবিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ সময় জানান, পাথর ফেলে হয়তো আগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা যাবে না, কিন্তু ক্ষতিপূরণ যতটুকু করা যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে সাদাপাথর লুটে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) নির্লিপ্ততার অভিযোগ আসা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, যার নামই আসুক, যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

One Reply to “ফের ‘সাদাপাথর’,এ ফিরছেন পর্যটকরা”
Comments are closed.