মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
শনিবার (১২ আগস্ট) এই অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
তারা হলেন, তালার দক্ষিণ নলতা গ্রামের সাইকেল মেকানিক শরিফুল ইসলাম (৪৬), তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৮) ও মেয়ে হাবিবা (২০)।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই বাড়ি থেকে একসঙ্গে বের হন তারা। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন।
রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে তালার খলিলগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নলতা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,
খুলনা-পাইকগাছা সড়কের পাশে ছোট্ট একটি দোকান রয়েছে শরিফুলের। সেটি এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়,
‘দোকানটিতে সাইকেল মেরামত করে সংসার চালাতেন শরিফুল। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র।’
‘শরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের বসতঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।’
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন,
‘গত ২৫ জুলাই সকালে স্ত্রী আমেনা বেগম, মেয়ে হাবিবাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শরিফুল।
‘সেদিন বিকাল থেকে তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পান স্বজনরা। কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন তারা।’
শরিফুলের বড় ভাই নজরুল মোড়ল বলেন,
‘শরিফুল সাইকেল মেকানিকের কাজ করে সংসার চালায়। কখনও খারাপ কোনও কাজের সঙ্গে জড়িত হয়েছে, এমন তথ্য এলাকার মানুষ দিতে পারবে না। জঙ্গির যোগসূত্র তো দূরের কথা, এর অর্থও আমরা বুঝি না।’
তিনি আরও বলেন,
‘দুই বছর আগে এই জঙ্গি সন্দেহে সিরাজগঞ্জ থেকে শরিফুলের মেয়ের জামাতা শান্তকে আটক করা হয়েছিল। বর্তমানে সে কারাগারে।’
‘গরু বিক্রয় ও জমি বন্ধক রেখে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করতে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছিল শরিফুল, তার স্ত্রী এবং মেয়ে।’
‘এখন তারাও ফেঁসে গেলো। আমরা জানি না, কেন আমার নিরীহ ভাইয়ের পরিবারকে জঙ্গি বলে ফাঁসানো হলো।’
শরিফুল কোনোও দলের রাজনীতি করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল মোড়ল বলেন,
‘জাকের পার্টির ভক্ত শরিফুল। প্রতি বছর ওরস হলে যায়। মাঝেমধ্যে আমি যাই ওরসে। এটা তো কোনও রাজনৈতিক দল না।’
‘জঙ্গির সঙ্গে আমার ভাইয়ের পরিবারের যোগসূত্র আছে, এটা আমি কখনও বিশ্বাস করি না। তাদের আটকের কথা শুনে আমরা হতভম্ব।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) চৌধুরী রেজাউল করিম জানান,
‘এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছি না। তবে আমরা পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’
সেলিম হায়দার, সাতক্ষীরা

Comments are closed.