নরসিংদীতে ২য় শ্রেণীর মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

নরসিংদীর মাধবদীতে মাইশা আক্তার (১০) নামে এক
মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার মৃতদেহ
ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে
মাধাবদীর কুঁড়েরপার জামিয়া ক্বাওমিয়া মাদরাসার
গোসলখানা থেকে ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত
ঐ মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ও ভগিরথ পুর গ্রামের
নেছার উদ্দিন মেয়ে। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী সদর
হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখনও
পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
শিক্ষার্থীর পিতা নেছার উদ্দিন বলেন, আমার মেয়েকে
ধর্ষণ করে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় রশি পেঁচিয়ে
মাদ্রাসার ৪ তলায় গোসলখানায় ঝুলিয়ে রাখা হয়। শরীরে
বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ রয়েছে। মাইশা মেধাবী ছাত্রী,
সে কোন ভাবেই আতহত্মা করতে পারে না। আমি আমার
মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই। তবে কারা কি কারণে তার

মেয়েকে হত্যা করেছে তা তিনি বলতে পারেননি। স্থানীয়
এলাকাবাসী ও নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক মাদ্রাসাটির একাধিক
ছাত্রীরা জানায়, গত মাসেও চতুর্থ শ্রেনী পড়ুয়া এই
মাদ্রাসায় আফরিন বেগম নামে এক ছাত্রীকে একই ভাবে
হত্যা করা হয়েছিল। মাদ্রাসার ৪র্থ তালায় গোসলখানায়
গলায় রশি দিয়ে পেচিঁয়ে আফরিন মেয়েটিকে শারেরিক ভাবে
নির্যাতন করে হত্যা পর আত্মহত্যার নাম দেয়া হয়। একই
ঘটনা ঘটল মেধাবী ছাত্রী মাইশার আক্তারে সাথেও। তাকেও
ধর্ষনের পর গলায় দড়ি পেচিঁয়ে মিথ্যা আত্মহত্যার নাটক
সাজিয়ে ঘটনার অন্য দিকে মোড় দেয়ার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে
মাদ্রাসাটিতে একে একে দুইজন মেয়েকে অকালেই জীবন দিতে
হল। এর কোন বিচারই হয়নি কোন অদৃশ্য শক্তির কারণে।
কুঁড়েরপার জামিয়া ক্বাওমিয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষাক
আহসান উল্লাহ বলেন, বিয়য় দুটি অনাকাঙ্খিত। আগে যে
আফরিন নামে ছাত্রী ছিল সে পরিবারের সাথে অভিমান করে
আত্মহত্যার করে এবং মাইশাও পরিবারের সাথে অভিমান
করেই এমন কাজ করেছে বলে আমাদের ধারণা। মাধবদী
থানার ‍ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, এই হত্যার ঘটনায় তদন্ত
চলছে। কারা কি কারণে এই মেয়েটিকে হত্যা করল তা পুলিশ
তদন্ত করে দেখছে।