নরসিংদীর দরিদ্র জেলের মেধাবী কন্যা মাসুমা চান্স পেলো ‘ঢাবি’তে

নরসিংদীর রায়পুরায় দরিদ্র জেলের মেয়ে অদম্য মেধাবী ছাত্রী মাসুমা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত মাসুমা আক্তার জানান,

‘নরসিংদী জেলা রায়পুরা উপজেলা দুর্গম চরাঞ্চলের চর মধুয়া ইউনিয়নের ফকির বাড়ির দরিদ্র জেলে রফিউদ্দিনের মেয়ে অদম্য মেধাবী ছাত্রী মাসুমা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিট এ ৬৪৪ তম হয়েছে

আমার বাবা একজন জেলে, মাছ ধরে আমাদের পরিবার নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করেন।

আমাকে লেখাপড়া করানোর মতো তাদের তেমন সামর্থ নাই।

আমার জন্মদাতা মা-বাবার পর সমস্ত লেখাপড়া চালিয়ে নিতে এবং এই সাফল্যের পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি,

তিনি হলেন আমাদের চর মধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের মানবিক চেয়ারম্যান,

মেঘনা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা, যমুনা ব্যাংক এর ব্যবস্থাপক, সমাজ সেবক শিক্ষানুরাগী আহসান সিকদার।

তিনি অষ্টম শ্রেণী থেকে আজ পর্যন্ত আমার পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করেন।

নরসিংদী হোস্টেলে রেখে সরকারী কলেজে পড়ানো এবং ভর্তি কোচিং সহ

আমার এস এস সি ও এইচ এস সি তে গোল্ডেন এ প্লাস পেতে আমার সমস্ত পড়াশোনার খরচ যোগিয়েছেন।

তিনি পিতা না হয়েও পিতার দায়িত্ব পালন করে সমাজের কাছে অন্য রকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আল্লাহর রহমতে আমার পরিশ্রমে আহসান সিকদার এবং আমার প্রিয় শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পেরেছি। তাদের অবদানের কথা কোন দিন ভুলব না।

আমি ভবিষৎ তে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের মানুষের জন্য ভাল কিছু সেবা দিতে চাই।

আগামী দিনে আমার প্রিয় অভিবাবক আহসান সিকদার ও সকল শিক্ষক সহ জন্মদাতা মা-বাবার মুখ উজ্জল করতে পারি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে আহসান সিকদার বলেন,

‘আমার এলাকার মেধাবী ছাত্রী মাসুমা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার খবরে আমি ভীষণ আনন্দিত। তার জন্য কিছু করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

সে ভবিষতে আরো ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারবে বলে শতভাগ আশাবাদী আমি, কেননা তার মধ্যে ভালো ফলাফল করার মেধা ও প্রতিভা রয়েছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন,

আমি সবসময় চর মধুয়া ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নে বিশ্বাসী।

আমি এবং আমাদের পরিবারের সকলে সবসমেই এলাকার মানুষের জন্য সমাজসেবা মূলক কাজে নিয়োজিত ছিলাম, আছি এবং থাকবো

দোয়া করবেন, আগামী দিনেও আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দেশ ও সমাজের জন্য সমাজসেবা মুলক আরো কিছু করতে পারি।

বশির আহম্মদ মোল্লা, নরসিংদী

এনএএন টিভি