১৪ দিন বাঁচা-মরার লড়াই করে হার মানলেন ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার

রাজধানীর ওয়ারীর টিপু সুলতান রোডে রাস্তার গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে আগুনে ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেলেন ডিপিডিসি’র সাইড ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন (২১)।

মঙ্গলবার (২০ জুন) সকাল ১০টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া জানান,

‘আনোয়ারের শ্বাসনালীসহ শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলো। এর আগে ১২ জুন মারা যান ডিপিডিসি’র শ্রমিক সোহেল (৩৫)।’

‘মৃত আনোয়ার হোসেনের বাবার নাম নুরুল ইসলাম। তার বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রামপুর গ্রামে।’

‘গত ৬ জুন দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে টিপু সুলতান রোডের পুরাতন থানা ভবনের পাশে এই আগুনের ঘটনা ঘটে।’

‘ঘটনার পরপরই দগ্ধ ৫ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউটের ভর্তি করা হয়। এর ১৪ দিন বাঁচা-মরার লড়াই করে হার মানলেন ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার ’

ঘটনার পর হাসপাতালে দগ্ধ মো. মামুন জানান,

‘টিপু সুলতান রোডে পুরাতন থানা ভবনের পাশে তাদের প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন ভবন।’

‘ঘটনাটি ঘটার দুই সপ্তাহ আগে থেকে ওই সড়কটিতে খনন করে ডিপিডিসির মেরামত কাজ চলছিল।’

‘ওইদিন রাতে তাদের প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন ভবনের ঠিক সামনে কাজ করছিলো ডিপিডিসির লোকজন।’

‘সারারাত তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠানের দুই নিরাপত্তা কর্মী সেই কাজ তদারকি করছিলেন।’

‘যাতে তাদের ভবনের কোন লাইন বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। রাত সোয়া ২টার দিকে হঠাৎ তাদের এসকেভেটর মেশিন দিয়ে রাস্তা খননের সময় গ্যাস লাইন লিক হয়ে যায়।’

‘সেখান থেসে প্রচণ্ড গ্যাস বের হতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে ডিপিডিসির কর্মীরা তিতাসকে বিষয়টি জানায়।’

তিনি আরও জানান,

‘লিকেজের কিছুক্ষণ পর তারা সেই জায়গা থেকে একটু দূরে সরে বসে ছিলেন।’

‘১৫ থেকে ২০ মিনিট পর হঠাৎ সেখান থেকে আগুন ধরে ওঠে। মুহূর্তেই তাদের শরীর ঝলসে যায়।’

এতে দগ্ধ হন, ডিপিডিসির সাইড ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন (২১), শ্রমিক মো. সোহেল (৩৫)।

মামুন রিয়েল স্টিট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ইন্সপেক্টর মো. মামুন (৪৭), নিরাপত্তাকর্মী হেলাল (৪০) ও আ. রশিদ (৬৫)।

বার্ন ইনস্টিটিইটের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, আনোয়ারের ২২ শতাংশ, সোহেলের শরীরের ৮০ শতাংশ, মামুনের ১২, হেলালের ১০ ও আ. রশিদের ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলো।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দিনমনি শর্মা ঘটনার দিন জানান,

‘রাস্তা খুড়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) কাজ চালাচ্ছিলো সেখানে। সেখানে থাকা গ্যাসের লাইন লিকেজ থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।’

এনএএন টিভি