কবে কমবে পেঁয়াজের ঝাঁজ?

তেল-চিনি ও মুরগির পর এবার অস্থির পেঁয়াজের বাজার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছে দাম।

তবে চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখনও কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এতে দিশেহারা সাধারণ ভোক্তারা।

সরেজমিন পুরান ঢাকার শ্যামবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ৫ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা।

আর আড়তদাররা ৫০ কেজির বস্তা প্রতি বিক্রি করছেন ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। একই চিত্র কারওয়ানবাজারেও।

ক্রেতারা বলছেন, পেঁয়াজের দাম ধীরে ধীরে ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

মূলত আমদানির অজুহাত আর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ইচ্ছে করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করছে ব্যবসায়ীরা।

কেরানীগঞ্জের আগানগর কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা সাব্বির আহমেদ বলেন, দিনকে দিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম।

পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসের দামও বাড়তি। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাজারে নিয়মিত মনিটরিং হয় না। সরকার নিয়মিত মনিটরিং করলে দাম কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, আড়তদাররা ঠিক মতো পেঁয়াজ সরবরাহ না করায় দাম বাড়ছে পেঁয়াজের।

আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৭০ টাকার ওপরে। তাই বাধ্য হয়েই ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

এদিকে পেঁয়াজ সংকটের কথা স্বীকার করে আড়তদাররা জানান, বাজারে পেঁয়াজের আমদানি কম। চাষিরা ঠিকমতো পেঁয়াজ দিচ্ছেন না।

পাশাপাশি বন্ধ বিদেশ থেকে আমদানিও। তবে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি চালু হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে জানান তারা।

শ্যামবাজারের মের্সাস নিউ বাণিজ্যালয়ের মালিক শহিদুল বলেন, সরকার পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।

এই সুযোগে দাম বাড়চ্ছে প্রান্তিক চাষিরা। ফলে আড়তেও বাড়ছে দাম। শিগগিরই আমদানি চালু না হলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আর কারওয়ানবাজারের আড়তদার সোলেয়মান বলেন, সরকার আমদানি চালু করলেই পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ২০ পড়ে যাবে। তাই দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে রোববার (১৪ মে) কৃষিসচিব ওয়াহিদা আক্তার জানিয়েছেন, কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে পেঁয়াজের বাজার সবসময় মনিটর করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি।

এনএএন টিভি