আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।
শনিবার (৩ মে) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের বোর্ডরুমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে
আয়োজিত আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এ দাবি জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এনে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।
তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এই করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হলো।
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ‘অবাস্তব নয়’ বলেও জানান জসিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাজেটের আকারও প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে বাজেটে রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহ করা সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হবে জানিয়ে জসিম উদ্দিন আরও বলেন,
‘এমনিতেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতির কারণে অত্যন্ত চাপের মুখে।
এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
উল্লেখ, প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা।’
আর এবারের বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানান জসিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ, লেনদেনের ভারসাম্য পরিস্থিতি উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা,
রিজার্ভ বাড়ানো, অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ হবে।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ডলার সংকট ও বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগ, আমদানি, রফতানি,
রেমিট্যান্স, রিজার্ভ সবকিছুর গতি নিম্নমুখী। অথচ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী।
বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরামর্শ দিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন,
বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দরকার সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়ানো।
এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যকর করে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় করা জরুরি।
