জটিলতা ভোজ্যতেলের নতুন ভ্যাট পরিশোধ নিয়ে

ঢাকার ভোজ্যতেলের মিলগুলোয় ডেলিভারিতে ধীরগতি দেখা গিয়েছে। নতুন আরোপিত ভ্যাট পরিশোধ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা

এ অবস্থায় যখন ক্রেতার কাঁধে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপিয়ে জিম্মি দশায় দেশের ভোজ্যতেলের বাজার,

তখন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বলছে, শিগগিরই মিলগেট থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত অভিযান শুরু হবে।

গত ৪ মে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানো হয়েছে, তা দেশের বাজারে কার্যকরও হয়েছে।

শুধু তাই নয়, অন্তত পাম তেলের ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়ে গেছে সরকার নির্ধারিত মূল্য।

এর মধ্যে আবার অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি মিল লাভ-লোকসানের হিসাব কষে খোলা সয়াবিন ও পামতেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অবশ্য এর বাইরে রয়েছে বোতলজাত তেল।

এক বিক্রেতা বলেন, বাজারে নতুন তেল পাওয়া যাচ্ছে। আমরা যে পরিমাণ তেল চাচ্ছি, মিলাররা আমাদের তা সরবরাহ করছেন। বাজারে তেলের কোনো সংকট নেই।

আরেকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, যে ভোজ্যতেলের ক্রয়াদেশ আগের মূল্যে দেয়া হয়েছিল সেগুলো মিলাররা সরবরাহ করছেন না। কিন্তু নতুন মূল্যের তেল পাওয়া যাচ্ছে।

গত আড়াই বছরের মধ্যে যখন ভোজ্যতেলের দাম বিশ্ববাজার প্রায় সর্বনিম্ন; তখন এর বিপরীতে সাড়ে ৪ মাস পর দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়ানো হলো।

তারপরও কেন এমন সংকটে তেলের বাজার? আমদানিকারকরা জানালেন, পুরনো এসও’তে নতুন করে আরোপিত ভ্যাট কে দেবেন? এমন প্রশ্নের মুখে মিলগেট কিছুটা স্থবিরতায় পড়েছে।

এ বিষয়ে এস আলম গ্রুপের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কাজী সালাহ্উদ্দিন আহাম্মদ বলেন,

‘১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করা হয়েছে, এটি শেয়ার করার জন্য আন্ডারস্ট্যান্ডিং গ্যাপের কারণে কিছুটা ধীরগতি হচ্ছে। এটি ঠিক হয়ে যাবে।

এখন প্রশ্ন হলো, যে বিক্রয়াদেশ বা এসও’র মেয়াদ ১৫ দিন, মাসের পর মাস ধরে তা কীভাবে থাকছে কার্যকর?

এর জবাবে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী সাঈদ মো. বশির উদ্দিন বলেন,

‘সরকারি দিক নির্দেশনা দেয়া আছে যে ১৫ দিনের বাইরে এসও রাখা যাবে না। এটি রাখাটা বেআইনি।

অনিয়মের বেড়াজালে যখন আবারও বন্দি তেলের বাজার তখনও খুচরা পর্যায়ে অভিযান আর জরিমানায় সীমাবদ্ধ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

এনএএন টিভি