নওগাঁ জেলায় সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে অনীহা চাষিদের

সরকারি পর্যায়ে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কায় নওগাঁ খাদ্য বিভাগ। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চালে কিছুটা সাড়া পেলেও, কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ একেবারে শূন্যের কোটায়। খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকারি দরের চেয়ে হাটে বেশি দাম পাওয়ায় গুদামে ধান দিতে আসছেন না কৃষকরা।

চলতি মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ২৮ টাকা কেজিতে ধান আর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪২ টাকা কেজিতে চাল কেনার ঘোষণা দেয় সরকার।

তবে মৌসুমের শুরু থেকেই নওগাঁর হাটগুলোতে মোটা ধানের দর সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫ থেকে ৬ টাকা বেশিতে বেচাকেনা হচ্ছে। ফলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক ।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করা যাচ্ছে না। এজন্য হাটে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের বেধে দেয়া দরে চাল দিতে গিয়ে লোকসান যাচ্ছে তাদের।

নওগাঁ শেখ রাইসমিলের পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দীন বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে চাল বিক্রি করায় কেজিতে ২ থেকে আড়াই টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আর নওগাঁ মজুমদার এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক শ্রী নিপেন মজুমদার বলছেন, আগে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা ক্ষতি হলেও এখন ক্ষতি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা। আগামীতে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিকে খাদ্য বিভাগ বলছে, চালের ক্ষেত্রে কিছুটা আশাবাদী হলেও ধান সংগ্রহে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। চলতি মৌসুমে জেলায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২২ হাজার মেট্রিক টনের বিপরীতে ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। তবে ১১ হাজার মেট্রিক টন ধানের বিপরীতে কৃষকের কোনো সাড়া পায়নি খাদ্য বিভাগ।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বাজারে কৃষকরা ধানের ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে সরাসরি বাজারে ধান বিক্রি করছে তারা। অপরদিকে সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৮ হাজার হেক্টর জমিতে সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ হয়, যা থেকে সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের ঘরে ওঠে।