স্বস্তি নেই পোলট্রি খাতে। দুই সপ্তাহে ৫০ টাকা বেড়ে ব্রয়লারের দাম কেজিতে এখন ২১০ টাকা। এতে আরও সংকটে পড়েছেন মাংসের চাহিদা পূরণে ব্রয়লারনির্ভর ক্রেতারা। তবে বাজারে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল।
দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় প্রাণিজ আমিষের বড় যোগান আসে ব্রয়লার মুরগি থেকে। তুলনামূলক কম দাম থাকায় চাহিদা রয়েছে সব শ্রেণির মানুষের কাছেই। মূলত কম আয়ের ভোক্তারাই বেশি নির্ভরশীল এ মুরগির ওপর।
এক কথায় বাজার এখনও অস্থির। ব্রয়লারের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা কেজিতে।
এদিকে দাম বেড়েছে সোনালি মুরগিরও; বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ২৯০ টাকা। দুসপ্তাহ আগেও যা পাওয়া যেত ২৬০ টাকায়।
দাম বাড়ার কারণ নিয়ে মিশ্র মতামত বিক্রেতাদের। অতিরিক্ত দামে দিশেহারা কম আয়ের ভোক্তারা। তারা বলছেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এত দাম দিয়ে মুরগি কেনা কষ্টকর। গরিবের মাংস খাওয়ার একমাত্র ভরসার জায়গাও আর থাকছে না। এভাবে চলতে থাকলে মাংস খেতে পারবেন না বলে জানান তারা।
আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এর আগে কখনোই এত দামে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়নি। এক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ব্রয়লার মুরগির কেজি ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়ায় খামারিরা বেশি দাম নিচ্ছেন। এছাড়া শীতের শেষে বিয়ে-অনুষ্ঠান বাড়ায় মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এতে দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতিকেজি ইলিশ মাছের দাম এক থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা। আর ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া আগের মতোই রয়েছে প্রায় বেশিরভাগ মাছের দাম। তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সরপুটি ২০০ টাকা, বড় সাইজের রুই ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, মাগুর ৪০০ টাকা, শিং ৩০০ টাকা ও চাষের কই ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্বাভাবিক আছে আটা, ময়দা, ডাল, ছোলা ও তেলের দাম। রমজানে বেশি প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের কোনো সংকট নেই। প্রতিকেজি আটা ৬০ টাকা, ময়দা ৬৫ টাকা, দেশি মশুর ১৩৫ টাকা, আমদানি মশুর ৯৫ টাকা, মুগ ডাল ৯৫ টাকা ও খেসারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
শীতের শেষেও সবজির সরবরাহ ভাল থাকায় কারওয়ানবাজারে অনেক সবজি মিলছে ১০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। বাজারে প্রতিকেজি শালগম ১০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ টাকা ও শশা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বাধাকপি ও ফুলকপি ২০ টাকা পিস, শিম ২০ টাকা ও টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।
এছাড়া বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

Comments are closed.